ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লাশ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইমরানের মা-বউ

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২১, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
লাশ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইমরানের মা-বউ
শোকস্তব্ধ ইমরান হাওলাদারের পরিবার ও স্বজনরা

ভূমধ্যসাগরে ঠান্ডায় মারা যাওয়া ৭ বাংলাদেশির মধ্যে মাদারীপুরের পাঁচজনের লাশ দেশে আসতে শুরু করেছে। শুক্রবার এসেছে ইমরান হাওলাদারের লাশ। শনিবার তাকে দাফন করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা-বউসহ স্বজনরা। পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরো ৪ জনের স্বজনরা অপেক্ষা করছেন লাশ পাওয়ার। তারা হলেন- মাদারীপুরের পেয়ারপুর গ্রামের রতন জয় তালুকদার, ঘটকচর গ্রামের সাফায়েত, মোস্তফাপুর গ্রামের জহিরুল এবং সদর উপজেলার বাপ্পী।

জানা গেছে, ভাগ্য পরিবর্তন করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে দালালের মাধ্যমে ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান ঐ পাঁচ যুবক। ভূমধ্যসাগরে ঠান্ডায় তারাসহ সাতজন বাংলাদেশি মারা যান।

Advertisement

শুক্রবার সকালে হযরত শাহজাহাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ইমরানের মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। একমাত্র ছেলে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে তা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ইমরান হাওলাদারের মা জামিলা বেগম।

স্বজনরা জানান, ধার-দেনা করে একই উপজেলার দক্ষিণপাড়ার দালাল সামাদ ব্যাপারীর হাতে ৮ লাখ টাকা তুলে দেন ইমরানের ভ্যানচালক বাবা শাজাহান হাওলাদার। পরে আর কোন খোঁজ রাখেনি দালালচক্র।

ইমরানের চাচা মো. শওকত হাওলাদার বলেন, অল্পবয়সী ছেলেদের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি নেয়ার কথা বলে দালালচক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর আসছে। দালালদের বিচার না হওয়ায় এ অপরাধ থামছে না। আমরা দালালদের কঠোর শাস্তি চাই।

জানা গেছে, গত বছরের ২৫ অক্টোবর মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের ভ্যানচালক শাজাহান হাওলাদারের ছেলে ইমরান হোসেন হাওলাদার সুখের আশায় বাড়ি ছেড়ে অবৈধ পথে স্বপ্নের দেশ ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে লিবিয়া থেকে শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই ইমরানের।

আরো জানা গেছে, শুক্রবার খবর আসে ভূমধ্যসাগরের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে মারা গেছেন ইমরান। শনিবার ভোরে ইমরান হাওলাদারের লাশ মাদারীপুরের বাড়িতে আসে এবং সকাল ১০টার দিকে দাফন করা হয়। একমাত্র ছেলে ইমরানের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন স্বজনরা।

ইমরানের বোন আকাশী বলেন, দালালরা আমার ভাইয়ের মৃত্যুর কথা গোপন রেখেছিল। আজ তার লাশ পেলাম। সুখের খোঁজে স্বপ্নের দেশে যেতে চেয়েছিল আমার ভাই। অথচ দেশে ফিরল লাশ হয়ে। আমার মা-ভাবি এ শোক সইবেন কিভাবে?

মাদারীপুর সদরের ইউএনও মইন উদ্দিন বলেন, আইন দিয়ে এসব মানবপাচার পুরপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। অবৈধপথে বিদেশে পাড়ি দিতে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

শনিবার রাতেই বাকি ৪ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার সময় ঠান্ডায় মাদারীপুরের ৫ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবু আমরা দালাল চক্রকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!