লাগাতার ওষুধ সেবন আর মলত্যাগে নিস্তেজ হয়ে পড়েন শাহজাহান। ঘাতকদের কাছে চান একটু পানি। কিন্তু পানি পানি বলে চিৎকার করলেও মন গলেনি তাদের। শেষে পানি খাওয়াতে নিয়ে যান খালে। ততক্ষণে পানি খাওয়ার শক্তিটুকু ছিল না শাহজাহানের। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে খালে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যান হত্যাকারীরা। তিনদিন পর বোয়ালখালীর সারোয়াতলী ইউনিয়নের খিতাপচরে রায়খালী খালে মেলে শাহজাহানের লাশ।

.png)
পটিয়া থেকে শাহজাহানকে অপহরণ ও বোয়ালখালীতে লাশ উদ্ধার; পৃথক দুটি মামলা ঘিরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত ও দুজনকে গ্রেফতারে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য।
গ্রেফতার দুজন হলেন- বোয়ালখালীর দক্ষিণ ভুর্ষি ইউনিয়নের নুরুল আলমের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ও একই এলাকার আবু ছিদ্দিকের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে হিরু। ১৭ ফেব্রুয়ারি পটিয়া থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের খানমোহনা গ্রামের মহিষপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানান।

এরপর দুজনকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পটিয়া যায় পিবিআইয়ের একটি দল। যাওয়ার পর তাদের দেওয়া তথ্যমতে খানমোহনা পশ্চিম বিলে নুরুর মহিষ রাখার পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে শাহজাহানকে মারধরে ব্যবহৃত তিনটি গাছের লাঠি ও একটি পিভিসি পুরাতন পাইপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বেশকিছু সিরাপ ও ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যা শাহজাহানকে খাওয়ানো হয়েছিল।
শাহজাহান বোয়ালখালীর সারোয়াতলী ইউনিয়নের খিতাপচর এলাকার নূর হোসেন মেম্বারের ছেলে। ২০২০ সালের ২ অক্টোবর পটিয়া থেকে নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজের পর পটিয়া থানায় অপহরণ মামলা করেন তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম।
এর তিনদিন পর ৫ অক্টোবর বোয়ালখালীতে একটি খাল থেকে পরিচয়হীন এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পরদিন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়। বোয়ালখালী থানা পুলিশ মামলার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার পায় পিবিআই। এরপরই লাশটি পটিয়া থেকে নিখোঁজ শাহজাহানের বলে শনাক্ত করে সংস্থাটি।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিয়ের ভিডিও প্রোগ্রাম শেষ করে খানমোহনা এলাকায় দোকানে যাচ্ছিলেন মহিউদ্দিন ও সুজন নামে দুজন। একই সময়ে রেললাইনের পাশ ধরে আমির ভান্ডার দরবার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন শাহজাহান। ওই সময় ইয়াবা ব্যবসায়ী সন্দেহে শাহজাহানের গতিরোধ করেন মহিউদ্দিন ও সুজন। এরপর দুজন মিলে তাকে খানমোহনা পশ্চিম বিলে নুরুর মহিষ রাখার পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান।
সেখানে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন সাইফুল ও মেহেদীসহ আরো কয়েকজন। সবাই মিলে শাহজাহানের পেটে ইয়াবা আছে বলে তাকে মারতে থাকেন। কিন্তু তাতেও ইয়াবা না পাওয়ায় একপর্যায়ে ওষুধের দোকান থেকে মলত্যাগের ট্যাবলেট আনা হয়।
ট্যাবলেটের এক ডোজ খেয়ে দুবার মলত্যাগ করেন শাহজাহান। এতেও ইয়াবা বের না হওয়ায় দুই ঘণ্টা পর আবারো সেই ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এবারো মলত্যাগ করেন শাহজাহান। কিন্তু দেখা যায় সেই একই চিত্র।
এবার ফার্মেসি থেকে সিরাপ এনে খাওয়ানো হলে শুরু হয় লাগাতার মলত্যাগ। একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে শাহজাহানের শরীর।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসপি নাজমুল হাসান বলেন, শাহজাহানকে তুলে নিয়ে অভিনব কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চক্রের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।