ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জন্মের পরই রশিতে বাঁধা বৃষ্টির ‘জীবন’

রিফাত আহমেদ রাসেল, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৪:৫৫, ৫ মার্চ ২০২২
জন্মের পরই রশিতে বাঁধা বৃষ্টির ‘জীবন’
রশিতে বাঁধা বৃষ্টি

বৃষ্টির জন্ম ২০১৪ সালে। জন্মের এক বছর না যেতেই সন্তানের কিছু আচরণ চোখে পড়ে মা-বাবার। অস্বাভাবিক আচরণ হওয়ায় ডাক্তার-কবিরাজদের দেখান। কিন্তু কোনো সুফল না পাওয়ায় বেঁধে রাখেন ছোট্ট মেয়েটির দুই হাত। আর এভাবেই বেড়ে উঠছে বৃষ্টি। হাতে বাঁধন নিয়ে কেটে গেল সাত বছর।

ছোট্ট বৃষ্টির বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পৌর শহরের দশাল গ্রামে। তার বাবা শাজাহান মিয়া একজন কয়লা শ্রমিক। আর মা আয়েশা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করেন।

চলতি বছরের ৬ জুন বৃষ্টির আট বছর পূর্ণ হবে। সমবয়সী শিশুরা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে গেলেও রশিতে বাঁধা থাকতে হয় বৃষ্টিকে। স্কুল, খেলাধুলা কোনো কিছুই বোঝে না বৃষ্টি। জন্মের পর থেকে অস্বাভাবিক আচরণের কারণে ঘরের পিলারে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় বড় হচ্ছে বৃষ্টি।

Advertisement

জানা যায়, ২০১৪ সালের ৬ জুন শাজাহান ও আয়েশা দম্পতির সংসারে জন্ম হয় বৃষ্টির। জন্মের এক বছর যেতে না যেতেই বৃষ্টির আচরণ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন বাবা-মা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে অস্বাভাবিক আচরণের তীব্রতা। সুস্থতার জন্য ডাক্তার-কবিরাজসহ বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেও কোনো সুফল পাননি স্বজনরা। বাধ্য হয়ে আদরের সন্তানকে বেঁধে রাখার পথ বেছে নেন তারা। খাওয়া-দাওয়া, গোসল সবকিছু নিয়মমতো করানো হয়।

এছাড়া বাঁধন খুলে রাখলেই নিজের গায়ে নিজে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করে পুরো শরীর। বৃষ্টির সারা নিজের নখের আঘাতসহ কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। আগে ক্ষণিকের জন্য বেঁধে রাখলেও এখন বাধ্য হয়েই দিনরাত হাতে বাঁধন রাখতে হয় বৃষ্টির। রাতে ঘুমানোর সময় হাতে রশি আটকে রাখা হয় বিছানার সঙ্গে। অনেক সময় মেয়েকে রাতে পাহারা দিয়ে নির্ঘুম রাত কাটান মা-বাবা।

দীর্ঘদিন ধরেই দুহাত বেঁধে রাখার কারণে হাতের চামড়ার ওপর ছাপ পড়েছে দীর্ঘস্থায়ী। অপরিচিত কাউকে দেখলেই করে চিৎকার-চেঁচামেচি। কাছে গিয়ে বাঁধন খোলার চেষ্টা করলেই উল্টো আঘাত করে। তাই স্থানীয়রা ভয়ে কাছে আসেন না।

স্থানীয়রা জানায়, জন্মের পর থেকেই শিশুটি খুব কষ্ট করছে। তার বাবা-মাও অনেক কষ্ট করে শিশুটিকে লালনপালন করছেন। শিশুটি নিজেই নিজের গায়ে আঘাত করে, তাই তাকে বেঁধে রাখেন বাবা-মা।

বৃষ্টির বাবা শাজাহান মিয়া বলেন, ছোট থেকেই বৃষ্টি নিজেই নিজের গায়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করত। তখন আমরা কিছু বুঝতে না পেরে অনেক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বেঁধে রাখি।

বৃষ্টির মা আয়েশা খাতুন বলেন, বিকল্প কোনো পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেঁধে রাখি। না হলে নিজেই নিজের গায়ে আঘাত করে। রাতের বেলা ঘর থেকে নিজে নিজে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাই অনেক সময় আমরা রাত জেগে

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব উল আহসান বলেন, আমরা শিশুটির বাড়িতে গিয়ে দেখে এসেছি। তার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আমরা পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। তার জন্য একটি প্রতিবন্ধী কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!