ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যানচলাচল বন্ধ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ৮ মার্চ ২০২২
টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যানচলাচল বন্ধ
বেইলি ব্রিজের পাটাতন ভেঙে মাঝখানে আটকে গেছে সরিষা ভর্তি ট্রাক।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কের নাগরপুরে পারাপারের সময় বেইলি ব্রিজের পাটাতন ভেঙে মাঝখানে আটকে গেছে সরিষা ভর্তি ট্রাক। 

মঙ্গলবার দুপুরে ভাদ্রা ইউনিয়নে টেংরিপাড়া গ্রামে নয়নদী শাখা খালের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজে ঘটনাটি ঘটে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দু’পারের যান চলাচল।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ধলেশ্বরী সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়ক ব্যবহার বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে টাঙ্গাইল থেকে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে যেতে ফেরি পারাপারের বিড়ম্বনার দিন শেষ হয়। একই সঙ্গে ঢাকার নবীনগর, ধামরাই, মানিকগঞ্জ হয়ে দীর্ঘপথ যাত্রার সমাপ্তি হয়। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। 

Advertisement

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস এই সড়ক ব্যবহার করে টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। এছাড়াও পদ্মার ওপারের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, নড়াইলসহ কয়েকটি জেলায় চলাচলের পথ সুগম হয়। অপরদিকে প্রতিদিন কয়েকশ’সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ক্ষুদ্র যানবাহনগুলো টাঙ্গাইল-আরিচা-পাটুরিয়া এলাকায় চলাচল করে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেইলি ব্রিজের স্টিলের পাটাতন ক্ষয় হয়ে নাজুক অবস্থার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই যানবাহন চলাচল করছিল। বড় গাড়িগুলো পারাপার হতে পারলেও চাকা পিছলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছিল মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন। ভারি যানবাহন উঠলে রীতিমতো কেঁপে ওঠে পুরো সেতুটি।

যদিও ওই ব্রিজ দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধ থাকলেও তা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন চলাচল করছে শত শত ভারি যানবাহন। তবে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ২৩ আগস্ট বালু ভর্তি ট্রাক পারাপারের সময় পাটাতন ভেঙে ব্রিজের মাঝখানেই আটকে ছিল। এরপর  আবার ১৭ সেপ্টেম্বর ওই ব্রিজেই দুর্ঘটনা ঘটে। 

মঙ্গলবার দুপুরে বেইলি ব্রিজটির সেই একই স্থানে আবারও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙার কারণে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া ছোট বড় দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। দ্রুত ব্রিজটি মেরামত ও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেন, এই অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রিজ। গত বছর কয়েকবার রিপিয়ারিং করা হয়েছে। তবে কাজের মান ভালো হয়নি। এরপরও মানুষ উপায় না পেয়েই ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করে। এর মধ্যেই বেইলি ব্রিজটিতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই মুহূর্তে ব্রিজটি ভালো করে সংস্কার না করলে যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওহিদুজ্জামান মিলন বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে মেরামতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। সাময়িকভাবে মানুষ চলাচলের উপযোগী করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল হোসেন বলেন, ব্রিজের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে ব্রিজটিতে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। মেকানিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অতি দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজটি মেরামত করা হবে। এছাড়া ওই ব্রিজের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: টাঙ্গাইল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!