তাছাড়া মহাসড়কের ওই লাইনে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। শনিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় মহাসড়কের ছয় লেনে উন্নীত করণের কাজ শেষ হলে বংশাই রোডে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে একটু বৃষ্টি হলেই বংশাই রোডে হাঁটুপানি জমে থাকে। ফলে উপজেলার উত্তরা লের হাজারো মানুষকে সদরে আসতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ দুর্ভোগ লাঘবেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রকল্পের অধীনে বংশাই রোডের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
.png)
গত শুক্রবার রোডের ক্ষিনাংশ থেকে পুষ্টকামুরী মাঝিপাড়া হয়ে বারোখালী নদী পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের মাটি কাটার কাজ শেষ হয়। ঠিকাদার আব্দুল মোনায়েম কোম্পানির কর্মীরা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খননের কাজ শুরু করেন। এ সময় ড্রেন সংলগ্ন সারি সারি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির গুড়া থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেয়া হয়। খুঁটিগুলো একপাশ থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেয়ায় খুঁটিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শনিবার রাত ১টার দিকে একযোগে আটটি খুঁটি হেলে ভেঙে পড়ে। গভীর রাতে এই খুঁটিগুলো ভেঙে পড়ায় এবং খুঁটিগুলো ভেঙে এক অংশ মহাসড়কের ওভার ব্রিজের ওপর পড়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে রাত থেকে এ সব এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া মহাসড়কের ওই লাইনে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন রাতেই ঘটনাস্থলে ছুঁটে আসেন। তারা পল্লী বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেন।
বংশাই রোডের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, রাত ১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। বাসার বাইরে বের হয়ে দেখি অনেকগুলো বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে আছে। আল্লাহ সহায় তবে কেউ হতাহত হয়নি। তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবার ড্রেন নির্মাণের জন্য পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলোর গোড়া থেকে মাটি কেটে নেয়া হয়। তখন ভেকু অপারেটর কোম্পানির ফোরম্যানকে বলেছিলেন এভাবে একপাশ থেকে মাটি কেটে নিলে খুঁটি ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু ফোরম্যান তাকে ধমক দিয়ে বলেন, আমি যেভাবে বলি সেভাবে কাজ চলবে।
বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদ মিয়া বলেন, যেভাবে খুঁটির গোড়া থেকে মাটি কেটে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এটা যে কেউ দেখলে বুঝতে পারবে খুঁটিগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে ইঞ্জিনিয়ার বা ফোরম্যান এটা কেন বুঝলেন না তা আমাদের মাথায় ধরছে না। এই খামখেয়ালির জন্য কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার ও ফোরম্যানের অদক্ষতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আব্দুল মোনায়েম কোম্পানির ভেকু অপারেটর শহিদুলও স্বীকার করে বলেন, খুঁটির গোড়া থেকে মাটি কেটে নেয়ায় খুঁটিগুলো ভেঙে পড়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোানয়েম কোম্পানির কাউকে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে ভেঙে পড়া খুঁটি সরিয়ে নিতে ওই এলাকায় কোম্পানির বড় একটি হাইড্রোলিক ক্রেন আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কারিগরি আবু সাইম বলেন, মহাড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ কাজের মাটি কেটে নেয়ায় খুঁটিগুলো ভেঙে পড়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পরেছে। এরপরও আমরা বিকল্পভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করছি।