বন্যহাতির আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ি গ্রামের মানুষদের আতঙ্কে রয়েছেন। গত কয়েক দিনের অব্যাহত হাতির অত্যাচারে উপজেলার নাকুগাঁও ও পানিহাটার ফেকামারীতে ১০ জন প্রান্তিক কৃষকের সাড়ে পাঁচ একর বোরো আবাদের ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করেছে হাতিরদল।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৪০-৫০টি বন্যহাতির একটি দল ভারতের সীমান্তঘেঁষা পানিহাটার গ্রামের তালতলার জঙ্গলে অবস্থান করছে। হাতির এই দলটি প্রায় প্রতিদিন উপজেলার নাকুগাঁও ও পানিহাটা এলাকা দিয়ে নেমে আসছে ফসলের জমিতে।
.png)

নাকুগাঁও এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, নাকুগাঁও স্থলবন্দরে শ্রমিকের কাজ করে বাবা-মাসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে হয়। ১৬ হাজার টাকা খরচ করে এক একর জমিতে বোরো ধান করেছি। রোববার সন্ধ্যায় বন্যহাতির পালটি ক্ষেতে নেমে আমাদের ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। বাকি ফসল রক্ষা না করতে পারলে আমাদের মহাবিপদে পড়তে হবে।
একই এলাকার প্রান্তিক কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঋণ কইরা ১০ কাডা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। হঠাৎ কইরা হাতির পাল খেতে নাইমা পইড়া দুই কাডা জমি খাইয়া আর পাও দিয়া ফসল মাডির লগে মিশাইয়া ফালাইছে। গ্রামবাসী সবাই হই-হুল্লুর কইরা খেত থাইকা হাতি সড়ানো অইছে। অহন রাইত জাইগা সবাই হাতি পাহাড়া দিতাছি।’
পানিহাটা এলাকার কৃষক চানু, লিটন সাংমা ও মতি মিয়া বলেন, ‘প্রতি মৌসুমে বন্যহাতির পাল আইসা আমগর খেত খাইয়া যায়। আমরা হাতির অত্যাচার থেকে কবে মুক্তি পাবো জানি না। গতকাল রাইতেও খেতের ধানগুলো নষ্ট কইরা গেলো হাতির পাল।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, ১৫-২০ বছর আগে ৬০-৭০টি বন্যহাতি ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও ভারতের বিএসএফ সদস্যদের বাঁধার কারণে হাতির দলটি আর ফিরে যেতে পারেনি। এরপর এসব হাতি ২-৩টি দলে বিভক্ত হয়ে সীমান্ত এলাকায় এভাবে চষে বেড়াচ্ছে আর ফসলের ক্ষতি করছে। তারা যে কোনো সময় নাকুগাও ও পানিহাটা এলাকার ফসলি জমিতে ও লোকালয়ে তাণ্ডব চালাতে পারে। তাই পাহাড়ি এলাকার মানুষ বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে বাঁচতে চিৎকার হৈ-হুল্লোর করে রাত কাটাচ্ছে।
নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে সামাজিক বনায়ন করায় পর্যাপ্ত খাদ্য না থাকাতে ক্ষুধার্ত হাতির দল যখন রাগান্বিত হয়ে তেড়ে আসে তখন সাধারণ মানুষ পিছিয়ে যায়। এরা মাঝে মধ্যেই পাহাড়ি এলাকায় মহড়া দিচ্ছে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জকর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, এক সপ্তাহ ধরে ৪০-৪৫টি বন্যহাতির দল উপজেলার তালতলার জঙ্গলে অবস্থান করছে। সন্ধ্যার পর হাতির দলটি কয়েকটি দলে বিভিক্ত হয়ে ধান ক্ষেতে নেমে পড়ে ফসলি জমি পা দিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলেছি।