এছাড়া তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পারভীন বেগম শায়লা গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বর্ধনকুঠি এলাকার মৃত মছির উদ্দিনের স্ত্রী। রায় ঘোষণার পর পারভীন বেগম শায়লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এই মামলায় অপর চার আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন গোবিন্দগঞ্জের মালাধর গ্রামের মো. আয়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. বিপুল মিয়া, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মো. রমজান আলী ও বড়গলি এলাকার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে মো. সাজু মিয়া এবং সোহাগ হাসান। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আবু আলা মো সিদ্দিকুল ইসলাম রিপু, হানিফ বেলাল, বেগম হেলালী ও শাহনেওয়াজ খান।
.png)
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স বলেন, আসামিকে মৃত্যু পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদিত হওয়ার পর রায় কার্যকর হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পারভীন বেগম শায়লাকে আগামী সাতদিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জব্দকৃত হেরোইন ধ্বংস করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর বিকেলে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর থেকে বগুড়াগামী পায়রা মেইল বাসে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী হেরোইন নিয়ে গোবিন্দগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পরে গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ মোড়ে অবস্থান করে বাসটিকে থামালে কয়েকজন জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বাস থেকে যাত্রীরা নেমে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে পারভীন বেগম শায়লার হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ৫০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে পারভীন বেগম শায়লা জানান, বাসের জানালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ কাজে সহযোগিতা করে মো. বিপুল মিয়া ও মো. রমজান আলীসহ পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা। কিন্তু অন্য পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা তিনি জানেন না বলে জানান। এই হেরোইন হিলিতে সাজু মিয়ার কাছ থেকে কিনে দেন মো. বিপুল মিয়া ও মো. রমজান আলীসহ পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা।