ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছোট্ট দোকানে ১২ বছর সংসার

রাজু আহমেদ, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১৬:২৭, ৭ এপ্রিল ২০২২
ছোট্ট দোকানে ১২ বছর সংসার
দোকানেই বৃদ্ধা দম্পতির বসবাস

সড়কের পাশে ছোট্ট একটি দোকান। প্রায় এক যুগ ধরে অসুস্থ স্ত্রী সুফিয়া খাতুনকে নিয়ে এখানেই থাকছেন নূর আলী খাঁ। দোকানে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি হলেও লাভ হয় মাত্র ৪০-৬০ টাকা। যা দিয়ে চলে না সংসার। ফলে ধুঁকে ধুঁকে চলছে তাদের জীবন। তবে এ বৃদ্ধা দম্পতির ছেলেরা থাকছেন পাকা ঘরে। কিন্তু খোঁজ নেন না অসুস্থ মা আর বাবার।

টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় প্রায় ছয় বছর ধরে চলাফেরা করতে পারছেন না ৭২ বছর বয়সী সুফিয়া খাতুন। নূর আলীর শরীরেও বেঁধেছে নানা রোগ।

৭৮ বছরের নূর আলী খাঁ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুণ্ডি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া গ্রামের ছালেবাত খাঁয়ের ছেলে। সুফিয়া খলিশাকুণ্ডি গ্রামের মিলপাড়ার কলিম উদ্দিন খন্দকারের মেয়ে। তাদের চার মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

Advertisement

বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুন বলেন, চলাফেরা করতে পারি না। ছেলেদের অবস্থাও ভালো না। তাদের সংসারেও অভাব। আমার রোগ যন্ত্রণা আছে কিন্তু চিকিৎসা করার ক্ষমতা নেই। জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজখবর নেন না। শেষ বয়সে একটু ভালোভাবে বাঁচতে চাই।

নূর আলী ও সুফিয়া খাতুন বলেন, চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ছেলে কাঠের ব্যবসা ও দিনমজুর করেন। ছেলেদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।

এ বিষয়ে বৃদ্ধা দম্পতির ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা এ প্রতিবেদকের ওপর চড়াও হন। এ সময় তারা ছবি তুলতে ও তথ্য সংগ্রহ করতে বাধা দেন। কোনো বক্তব্য দেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন বৃদ্ধা দম্পতির ছেলে মাহাতাব উদ্দিন।

নূর আলী খাঁ বলেন, আমার স্ত্রী অনেক বছর ধরে অসুস্থ। প্রথমে চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা চলছে না। আমিও নানা রোগে আক্রান্ত।

তিনি আরো বলেন, দুই শতাংশ জমিতে ছেলেরা থাকে। টাকার অভাবে দোকানে মালপত্র তুলতে পারি না। প্রতিদিন ৩০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। লাভ হয় মাত্র ৪০-৬০ টাকা।

নূর আলী বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে আমরা দোকানে থাকি। আগে স্ত্রী রান্না করতো। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমিই রান্না করতাম। কিন্তু চার মাস আগে থেকে বড় ছেলে অনিয়মিতভাবে খেতে দেয়। কাজ করতে পারি না বলে দোকান দিয়েছিলাম। সেই দোকানেই ১২ বছর ধরে থাকছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম বিন জামান বলেন, বিষয়টি জানি। আমি এবার নির্বাচিত হয়েছি। সরকারি বিধি মোতাবেক বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। তবে তার ছেলেদের অবস্থা মোটামুটি ভালো।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল জব্বার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে সরকারের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!