ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মায়ের লাশ আটকে সন্তানদের পুলিশে দিলেন চিকিৎসকরা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৪, ১০ এপ্রিল ২০২২
মায়ের লাশ আটকে সন্তানদের পুলিশে দিলেন চিকিৎসকরা
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মায়ের লাশ আটকে রেখে দুই ছেলেকে পুলিশে দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শনিবার রাত ৩টার দিকে খুমেক হাসপাতালে মারা যান মহানগরীর দৌলতপুরের পাবলা কারিকর পাড়ার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী ৫৫ বছর বয়সী পিয়ারুন্নেছা। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসক কামরুল হাসানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ছেলে মো. মোস্তাকিম। তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। পরে পিয়ারুন্নেছার অপর দুই ছেলেকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেন চিকিৎসকরা। 

রোববার সকালে মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার স্ত্রীর বুকে ব্যথা ও পায়খানা-প্রসাব না হওয়ায় ৮ এপ্রিল রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সে রাতে চিকিৎসা করা হয়েছে। শনিবার রাতে স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর হলে আমার ছেলে চিকিৎসককে ডাকতে গেলে কেউ আসেননি। উল্টো রোগীকে নিয়ে যেতে বলেন। জবাবে ছেলে বলল- রোগীকে কিভাবে আনব, তিনি তো মোটা মানুষ, আনা সম্ভব নয়। এরপর কাগজপত্র আনতে বললেন চিকিৎসক।

Advertisement

কাগজপত্র দেখে সব ঠিক আছে বলে জানালেন ইন্টার্ন চিকিৎসক। কিন্তু রোগী দেখতে কেউ আসেননি। এরপর রাতে ছটফট করতে করতে আমার স্ত্রী মারা যান।

মায়ের এমন মৃত্যুতে আমার ছেলে মো. মোস্তাকিম গিয়ে চিকিৎসকের কাছে জানতে চান তারা কেন দেখতে আসেননি। এ নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয় চিকিৎসকের। বিষয়টি জানতে পেরে চিকিৎসকের হাত-পা ধরে মাফ চাই। উল্টো ইন্টার্ন চিকিৎসক আমার গায়েও হাত তোলেন। অপর দুই ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম কাবির ও সাদ্দাম হোসেনকে পুলিশে দেন। তারা বর্তমানে সোনাডাঙ্গা থানায় আটক রয়েছেন। আর আমার স্ত্রীর লাশও হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর শামছুদ্দিন আহমাদ প্রিন্স এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এলেও খারাপ ব্যবহার করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের ভাইয়ের ছেলে মামুন বলেন, আমার চাচির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই মোস্তাকিমের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক কামরুল হাসানের হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে তারা চাচাতো ভাই সাদ্দামকে মেরে জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। এছাড়া মো কাবিরকে গালাগালি দিয়ে পুলিশে দেন। আমরা চাচির লাশের কাছে যেতে চাইলেও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভেতরে ঢুকতে দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক কামরুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। তবে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, মানুষ মারা গেলে একটি প্রসিকিউট আছে। সে অনুযায়ী লাশ ছাড়তে হয়। লাশ আটকানোর তো কিছু নেই। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে। আমরা কোনো জিডি বা মামলা করিনি তাদের বিরুদ্ধে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, রাতে এক নারী মারা যান। রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ দুজনকে আটক রেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!