গরু ডাকাতি করে মাংস বিক্রি করে তারা
গরু ডাকাতি করে দ্রুত জবাই করে মাংস করাই তাদের পেশা। আন্তজেলা এমন ডাকাত দলের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লাউতারা গ্রামের আলমগীর শেখ, বাবু খা, বন্ধুলট গ্রামের আবু দাউদ, বিষ্ণুপুর গ্রামে শেখ ইলিয়াজ, শিবালয় উপজেলার ধুসর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, সাভার উপজেলার ইমান্দিপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার গঙ্গাদাশপুর গ্রামের শাজাহান ও শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মরিচাপাড়া গ্রামের মঙ্গল আলী।
.png)
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, গত ৬ এপ্রিল হরিরামপুর উপজেলার কৌড়িতে অবস্থিত সিএফসিএল ডেইরি ফার্মের ৩টি ষাঁড় তাদের নিজস্ব পিকআপভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া পথে সিংগাইর উপজেলার গাড়াদিয়া এলাকায় ডাকাতির কবলে পড়ে। ১০-১২ জনের ডাকাত সদস্য ব্যারিকেড সৃষ্টি করে গরু বহনকারী পিকআপের চালক মাহবুবুল্লাহ, রাখাল রহমত ও সোহানকে মারধর করে গরুসহ পিকআপভ্যানটি লুট করে নিয়ে যায়। গরুর ফার্মের পক্ষ থেকে সিংগাইর থানায় ১০ এপ্রিল একটি মামলা করা হয়। ডাকাতির রহস্য উন্মোচন ও ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ মাঠে নামে। এর পর সিসিটিভির ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাভারের আশুলিয়া, ধামরাই ও গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এবং বাসন এলাকা থেকে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সিএফসিএল ডেইরি ফার্মের ম্যানেজার গোলাম আজাদ সরকার বলেন, তাদের ডেইরি ফার্মে ৭০০ গরু রয়েছে। মাঝে মধ্যে গরু ঢাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। গত ৬ এপ্রিল রাতে ফার্মে থেকে ৩টি ষাঁড় ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ৩টার দিকে সিংগাইর মানিকগঞ্জ সড়কে গারাদিয়া এলাকায় ডাকাত সদস্যরা অন্য একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেট দিয়ে পিকআপসহ গরু ডাকাতি করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, ডাকাতির পর পুলিশ ডাকাতদের ধারার জন্যে মাঠে নেমে কাজ শুরু করেন। ডাকাতি হওয়া গরু দ্রুত জবাই করে তার মাংস বিক্রি করে দেয় ডাকাত সদস্যরা। পুলিশ এই ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার ও লুট হওয়া পিকআপভ্যানটি উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃত ৮ ডাকাত সদস্যের মধ্যে ৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন। বাকি দুইজনকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।