ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আখাউড়ায় একদরের দোকানে প্রতারিত ক্রেতারা

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ২১ এপ্রিল ২০২২
আখাউড়ায় একদরের দোকানে প্রতারিত ক্রেতারা
আখাউড়ায় জমজমাট হয়ে উঠছে ঈদ কেনাকাটা-ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জমজমাট হয়ে উঠছে ঈদ কেনাকাটা। পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবারের সদস্য আর স্বজনদের চাহিদা মেটাতে পছন্দের পোশাকের খুঁজে ছুটছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। তবে কেনাকাটা করতে আসা লোকজনরা একদরের দোকানগুলোতে প্রতারিত হচ্ছেন বেশি। এসব দোকানে পণ্যের গুণগত মানের সঙ্গে দামের কোনো মিল নেই। তারা কাপড়ের গায়ে অতিরিক্ত মূল্য লাগিয়ে দেদার পণ্য বিক্রি করছেন। 

পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি এক দরের দোকানে ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নানা ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। এসসব দোকানে শাড়ি, থ্রি-পিস, টু-পিস, প্যান্ট জামা, গেঞ্জি, টি-শার্টসহ বিশেষ করে বাচ্চাদের পোশাক তারা চড়া দাম বিক্রি করছেন। 
পোশাকের দাম এতো বেশী কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা বলেন মালের গুনগত মান ভালো থাকায় কিছুটা দাম বেশী বলে জানায়।

সরেজমিনে পৌর শহরের সড়ক বাজারে সিটি কর্নার মার্কেট, গোল্ডেন প্লাজা, আলী মার্কেট, চৌধুরী কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন মার্কেটে দেখা যায় নারী পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। চলছে জমজমাট কেনা বেচা। প্রতিটি মার্কেটে শোভা পাচ্ছে স্কার্ট, টপস, থ্রি-পিচ,জিন্স প্যান্ট, জামদানি শাড়ি, বেনারশি, কাতান, সিল্ক, জর্জেট জয়পুরি, ছেলেদের নবাবীপাঞ্জাবি,শেরওয়ানি, ফতুয়া, টি শার্ট পেন্ট এবং ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য বাহারি ডিজাইনের তৈরি পোশাক। তাছাড়া রয়েছে জামদানি বেনারশি, কাতান, সিল্ক, জর্জেট জয়পুরি শাড়িও।

Advertisement

তবে সাতরং, আরাবিয়ান বোখরা হাউজ, বাজার কলকাতাসহ বেশ কয়েকটি এক দরের দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে পোশাক তারা বিক্রি করছেন। যেখানে এক দরের দোকান ছাড়া অন্য দোকানে একটি শার্ট ৬শ থেকে ৭শ টাকায় কেনা যায়। সেখানে এক দরের দোকান থেকে ১২শ থেকে ১৫শ টাকায় ক্রয় করতে হয়। ছোট বড় সব ধরনের কাপড় এক দরের দোকানে দুই থেকে তিনগুণ টাকা রাখছেন।

অভিযোগ উঠেছে দেশিয় কাপড়ে ইন্ডিয়ান প্রচার করে এবং বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল, সিনেমা আবার কখনো কখনো নায়ক নায়িকার নামের উপর নামকরণ করে তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছে।

এসব দোকাগুলোতে ক্রয় করতে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, এক দরের দোকানগুলোতে চলছে এক দরের নামে এক প্রকার পকেটকাটা। পণ্যের গুণগত মানের সঙ্গে দামের কোনো মিল নেই। বিশেষ করে শিশু ও মেয়েদের পোশাক নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। দোকানিরা একদর হাকিয়ে আছে, পছন্দ করলেই গলার কাটা দামে ক্রয় করতে হচ্ছে।

গৃহিণী রুমানা জামান জানান, তার মেয়ের জন্য জর্জেটের একটি জামা ক্রয় করেন সাতরং থেকে। ঐ জামাটার দাম নিয়েছে ৩ হাজার টাকা। অথচ একই গুণগত মানের জর্জেট জামা অন্য মার্কেটে ১ হাজার ৩শ টাকা বিক্রি করতে দেখেছেন। তিনি একদরে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

মো. রফিকুল ইসলাম  জানান, এক দরের দোকানগুলোতে সাধারণ মানুষের একটি ভরসা ছিল। কিন্তু এখন যেন ওইসব দোকান গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদকে পঁজি করে তারা রাতের আঁধারে মূল্য ট্যাগ পরিবর্তন করে মামামাল অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। একই পোশাক দু’মাস আগেও এক দরের দোকান থেকে ৫শ’ টাকায় কেনা হয়। এখন সেই পোশাক ১৫শ টাকার নিচে কেনা যাচ্ছে না। 

আরাবিয়ান বোরকা হাউজের মালিক এনামুল হক বলেন, আমার দোকানে শুরু থেকেই একদরে মালামাল বিক্রি হচ্ছে। একদাম লিখে রাখা হয় যাতে করে কাস্টমারদের সঙ্গে বেশি দামাদামি না করতে না হয়। মালামালে খুবই কম দাম লিখা থাকে যাতে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দে ক্রয় করতে পারেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম  বলেন, একদরের নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করার সুযোগ নেই। প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বাজারে ঐ ধরনের কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: আখাউড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!