রোববার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের কুটুই গ্রাম থেকে ওই চাষির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রবীন্দ্র বিশ্বাস উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের কুটুই গ্রামের গিরিশ বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রতুল ভৌমিক জানান, শনিবার রাতে স্থানীয় দেবেন্দ্র সন্ন্যাসীর মন্দিরের পাশে রবীন্দ্র বিশ্বাসের মরদেহ ঝুলতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর রাতেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
.png)
রোববার সকালে চাতলপাড় পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার সিংহ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ছেলে সুজিত বিশ্বাস বলেন, আমার বাবা খুব কষ্ট করে সংসার চালাতেন। আমাদের কোনো জমিজমা নেই। গত তিনমাস আগে ১২ হাজার টাকা দিয়ে তিন কানি জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছিলেন বাবা। কিন্তু গত ৮ এপ্রিলের শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এছাড়াও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে বাবা তিন বোনের বিয়ে দেন। সেই ঋণের টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারেননি। অভাবের কারণে বাবা এলাকার একাধিক দাদন ব্যবসায়ীর দারস্থ হয়ে সুদের মাধ্যমে টাকা ঋণ নেন। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় বাড়িতে এসে তাড়া দিতেন। উপায় না দেখে বাবা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
নাসিরনগর থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটা আত্মহত্যা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।