নিহত ব্যবসায়ীর নাম মোহাম্মদ হারুন। তিনি উপজেলা ডাম্প ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। আহত ব্যবসায়ীর নাম হারুনুর রশিদ।
স্থানীয়রা জানান, ডাম্প ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে বসে গাড়ির হিসাব-নিকাশসহ অন্যান্য কাজ করছিলেন মোহাম্মদ হারুন ও হারুনুর রশিদসহ কয়েকজন। ঐ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা ও খুনসহ একাধিক মামলার আসামি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এসে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীরা মোহাম্মদ হারুনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে হারুন অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা অপর ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদকে মাথা ও হাতে-পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান।
.png)
ঘটনার পর হারুনের জ্ঞান ফিরলে তিনি বাসায় চলে যান। বাসায় যাওয়ার পর বুকে ব্যথা অনুভূত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আহত অপর ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আহত ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদের শ্যালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, যুবদল ক্যাডার মোহাম্মদ আলী ও তার ভাই জাফরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী চাঁদা না পেয়ে এ ঘটনা ঘটায়। এর আগেও কয়েকবার চাঁদা দাবি করেছিল তারা। না পেয়ে এবার পরিকল্পিতভাবে মোহাম্মদ হারুনকে হত্যা ও আমার দুলাভাই হারুনুর রশিদকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করে। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন।
এদিকে, নিহতের ছেলে ও ডাম্প ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতির বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা দেখে হার্ট অ্যাটাকে মোহাম্মদ হারুনের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও আহত হারুনুর রশিদের দাবি- সন্ত্রাসীদের হামলায় বুকে আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান মোহাম্মদ হারুন। পরে হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে হামলার কথা স্বীকার করছে না কেউ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বুকে ব্যথার কথা বলে হাসপাতালে আসেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন। ওই সময় লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা তার ছেলের কাছে মারামারি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে ছেলে বাবার লাশ নিয়ে যায়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এ ঘটনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।