বগুড়ায় ধান-চালের অবৈধ মজুত, সাড়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা
শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের গুদামে অভিযানে পাওয়া যায় ধান-চালের অবৈধ মজুত। তবে বস্তায় দেখা গেল এসিআই ফুডস লিমিটেডের মোড়ক। গোলটা বাঁধল তখনই। কীভাবে সম্ভব এটা! পরে জানা গেল দীর্ঘ দিন ধরেই শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কারবার করছে এসিআই।
মিলের ও মজুতের লাইসেন্স শিনুর নামে থাকলেও সেখানে এসিআইয়ের লেবেল যুক্ত ধান-চালের মজুত। এমন ঘটনা বগুড়া শেরপুর উপজেলার।
এর আগে, ভরা মৌসুমেও চালের দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিসভা নির্দেশ দেয়। এর পরপরই সারাদেশে শুরু হয় পুরোদমে অভিযান। বাজার পরিদর্শনে চালের দামে পাওয়া যাচ্ছে গড়মিল, ব্যবসায়ীরা গুনছেন জরিমানা।
.png)
বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত শেরপুর উপজেলার চালের বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) সাবরিনা শারমিন। ঐদিন বেলা সাড়ে ১২টা থেকে এ অভিযান শুরু করেন তিনি। পরিদর্শন করেন উপজেলার বিভিন্ন ধান-চালের বাজার। অসংগতি থাকায় দুই প্রতিষ্ঠান গুনে জরিমানা।
অভিযানে শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ও গৌড় গৌড়াঙ্গ ভাণ্ডার নামে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে গৌড় গৌড়াঙ্গ ভাণ্ডারে ২০০ মেট্রিক টন চালের অবৈধ মজুত পাওয়া যায় এবং শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে ১ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন চাল ২ হাজার ৯৩৫ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যায়। মজুত করা ধান-চাল তিনদিনের মধ্যে বিক্রির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথপাড়ার গৌড় গৌড়াঙ্গ ভাণ্ডারে অভিযান পরিচালনা করে ২০০ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়। অথচ তাদের ১০০ মেট্রিক টন চাল পর্যন্ত মজুত করার অনুমোদন আছে। এছাড়াও মজুত করা চালগুলো এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গুদামে রাখা হয়। কিন্তু ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে চাল মজুত রাখা ওই প্রতিষ্ঠানটির জন্য অবৈধ। এ কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ৫৬ বছর বয়সী প্রদীপ সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরে উপজেলার জোয়ানপুর এলাকায় শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ১ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন চাল ২ হাজার ৯৩৫ মেট্রিক ধানের মজুত পাওয়া যায়। তবে চালগুলো এসিআই ফুডস লিমিটেডের লেবেল যুক্ত এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের বস্তায় পাওয়া যায়। যা গত মার্চ মাস থেকে মজুত অবস্থায় আছে বলে স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এনামুল হক। মিলের ও মজুতের লাইসেন্স শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের নামে থাকলেও সেখানে এসিআই ফুডস লিমিটেডের লেবেল যুক্ত ধান-চাল পাওয়া যায়। কিন্তু এসিআই ফুডস লিমিটেডের শেরপুরে মিলের ও ধান-চাল মজুতের কোনো লাইসেন্স নেই। ওই মিল ও গুদামেই ধান-চাল প্যাকেটজাত ও মজুত করে আসছিল এসিআই ফুডস লিমিটেড, যা অবৈধ। এই অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এনামুলকে ৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন-এ-কাইয়ুমসহ শেরপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, ধান-চালের অবৈধ মজুত বন্ধে ও মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।