এ সময় অপহরণকারী শিশুর খালু বাবু মিয়া ও তার প্রথম স্ত্রী নুরুন্নাহার ওরফে অনুকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান ভৈরব থানার ওসি গোলাম মোস্তফা।
তিনি বলেন, অপহরণকারী প্রথমে ৬০ হাজার পরে এক লাখ টাকা দাবি করে শিশুটির পরিবারের কাছে । এরই মাঝে বিকাশের মাধ্যমে অপহরণকারীকে ৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। বাকি টাকার জন্য একাধিকবার মোবাইলে ফোন দিতে থাকে।
.png)
তিনি আরো বলেন, শিশুটিকে অপহরণের ঘটনায় তার ভাই রুবেল মিয়া বাদী হয়ে গত ১ জুন রাতে ভৈরব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। মামলার পর আমরা একটি টিম গঠন করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারি শিশুটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি বিকাশের দোকান থেকে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের সহায়তায় প্রথমে বাবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তার স্বীকারোক্তিতে একই থানার মদন থেকে তার প্রথম স্ত্রী নুরুন্নাহার ওরফে অনুকে গ্রেফতার করে অনুর হেফাজতে থাকা অপহৃত শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করি। গ্রেফতারকৃত বাবু মিয়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের খিদিরপুর গ্রামের মালেক মিয়ার ছেলে। তবে সে গ্রামে থাকে না, ভাসমান অবস্থায় দেশের বিভিন্নস্থানে অবস্থান করে এবং একাধিক বিয়ে করে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
তিন মাস আগে অপহরণকারী বাবু মিয়া ভিকটিমের খালাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর গত ২৮ মে বাবু মিয়া তার ভায়রা ভাইয়ের বাড়ি ভৈরবের শ্রীনগরে কামারকান্দা গ্রামে বেড়াতে আসে। বাড়িতে এসে তার ভায়রা ভাইয়ের ছেলে মোকারমকে স্থানীয় বাজারে ঘোরাফেরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে কৌশলে শিশুটিকে ৪-৫ জনের সহায়তায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রেখে শিশুটির বড় ভাই রুবেল মিয়ার মোবাইল নম্বরে ফোন করে মুক্তিপণ বাবদ ৬০ হাজার টাকা দাবি করে । মুক্তিপণ না পেলে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।