স্কুলছাত্রীদের হেনস্থা করত ‘ভিআইপি রানা’, জোর করে বানাতো টিকটক ভিডিও
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জঙ্গলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে চার শিক্ষিকাকে হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রানা নামে এক যুবক। তিনি ‘ভিআইপি রানা’ নামে পরিচিত।
র্যাব জানায়, করিমগঞ্জ এলাকায় স্কুলছাত্রীদের নিয়মিত উত্ত্যক্ত করাই ছিল ‘ভিআইপি রানা’র কাজ। স্থানীয় বখাটেদের নিয়ে গড়ে তোলে সংঘবদ্ধ চক্র। স্কুলছাত্রীদের হেনস্তা করার ভিডিও নিজেদের গ্রুপে ছড়িয়ে দিতো সে। আবার জোর করতো টিকটক ভিডিও বানাতে। তার কথায় রাজি না হলে নানা ভয়ভীতি দেখাতো। কোনো ছাত্রী প্রতিবাদ করলে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়া হতো। স্থানীয় কেউ বাধা দিলে তাকেও দেওয়া হতো হুমকি।
‘ভিআইপি রানা’সহ চারজনকে গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব। এতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ১২ জুন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে বহিরাগত কিছু ছেলে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় উঠে ছবি তোলার চেষ্টা করে। স্কুলের কয়েকজন শিক্ষিকা তাদের চলে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
ঐ দিন বিকেলে স্কুল শেষে শিক্ষিকারা অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে তালিয়াপাড়া এলাকায় বখাটেরা তাদের গতিরোধ করে। ঐ সময় তারা শিক্ষিকাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, শ্লীলতাহানি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সেই ঘটনায় বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঐ স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বন্ধ করে মিছিল ও মানববন্ধন করে।
এসব ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৪ এর একটি দল মঙ্গলবার রাতে কিশোরগঞ্জ ও রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে আসামি সৌরভ মিয়া ওরফে বাবু, সোহান ওরফে হিরা, সীমান্ত এবং মামলার প্রধান আসামি আল আমিন ওরফে ভিআইপি রানাকে গ্রেফতার করে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আল আমিন ওরফে ভিআইপি রানা এলাকার উঠতি বয়সী কিশোরদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে। যার নেতৃত্ব নিজেই দিচ্ছিল। সে বেশ কিছুদিন ধরে তার এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কোনো ছাত্রী প্রতিবাদ করলে সে তাদের এসিড নিক্ষেপের হুমকি দিতো। এছাড়া স্থানীয় কেউ বাধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে চক্রের সদস্যরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাস্তাঘাটে হেনস্তা করতো।
তিনি আরো বলেন, ভিআইপি রানার সুনির্দিষ্ট পেশা নেই। রানা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে ছাড়া সবার বয়সই ১৮ বছরের নিচে। তাদের কেউই স্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেনি। তারা ভয় প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল করা, টিকটক ভিডিও তৈরি করে নিজেদের গ্রুপে শেয়ার করত। তাদের মধ্যে একজন ঐ স্কুলেরই ছাত্র। মূলত আধিপত্য বোঝাতেই স্কুলে গিয়ে টিকটক ভিডিও বানানোর চেষ্টা করছিল ও ছবি তুলেছিল তারা।
কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃত তিনজনই যেহেতু ১৮ বছরের নিচে সেজন্য তাদের আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাজসেবা অধিদফতরে হস্তান্তর করব। আর ভিআইপি রানাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।