ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাহাড়ি ঢলে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৫, ১৭ জুন ২০২২
পাহাড়ি ঢলে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম
কোমর সমান পানির মধ্যেই কেউ নৌকায় আবার কেউ হেঁটে যাচ্ছেন গন্তব্যে- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কমলাকান্দা উপজেলায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম। শুক্রবার সকাল থেকেই সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীর পানি পৌর শহরের আশপাশের ড্রেন ও বাঁধ ভেঙে শহরের মেছুয়া বাজার, মুক্তারপাড়া, মধ্য বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে প্রায় হাঁটুপানি লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি পানিতে তলিয়ে গেছে দুর্গাপুর থানা ও ঐতিহ্যবাহী বাচারি জামে মসজিদ। তবে দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি কিছুটা থামায় নামতে শুরু করেছে শহরের পানি।

সোমেশ্বরীর তীরবর্তী চক লেঙ্গুরা, চৈতালি, গাঁওকান্দিয়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম। পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অনেকেই গবাদিপশুসহ আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী উঁচু সড়কে।

Advertisement

পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণায় সোমেশ্বরী ও উব্ধাখালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একই অবস্থা কমলাকান্দা উপজেলার। উজান থেকে পানি এসে উব্ধাখালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখনো প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। এখনো পানির নিচে কমলাকান্দা বাজার সরকারি বেসরকারি নানা স্থাপনা। কমলাকান্দা এখনো পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উব্ধাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ উপজেলায় বন্যা দুর্গতদের জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে প্রশাসন।

এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এসে অবস্থান করছে মানুষ। এছাড়া ঢলের পানিতে বন্দি হয়ে অনেকেই বাড়ি-ঘরের চালায় আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দিদের মাঝে শুকনো খাবার সরবরাহের জন্য এরই মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণায় সোমেশ্বরী ও উব্ধাখালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এছাড়া নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায়, কুল্লাগড়া, উত্তর ফারংপাড়া কামারখালী, ইসলামপুর, বিজয়পুর, ভবনীপুর, দাহাপাড়া, বন্ধউষান এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয়রা।

দুর্গাপুরের ইউএনও রাজীব-উল-আহসান বলেন, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার সর্বত্র প্লাবিত হয়েছে। গাওকান্দিয়া ও কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আমরা প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে  নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দিদের মাঝে জরুরু খাদ্য সহায়তা দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। এরই মধ্যে বন্য দুর্গতদের মাঝে খাদ্য সহায়তাসহ সব সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে এ কন্ট্রোল রুমে কলে করে সাহায্য-সহযোগিতা নিতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!