ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দুই শিক্ষার্থীকে মারধর, শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ২০:৪২, ৩ জুলাই ২০২২
দুই শিক্ষার্থীকে মারধর, শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঈদুল আজহার ছুটি পেয়ে বিদ্যালয়ে আনন্দ-উল্লাস করায় সপ্তম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেন এক শিক্ষক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক জসিম উদ্দিন ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

রোববার হাজী নূর উদ্দিন আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর লাল ঘোষ ঐ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শনিবার দুপুরে রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন ভূইয়ার বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের আইসিইউতে নেয়া হয়।

Advertisement

প্রধান শিক্ষক জহর লাল ঘোষ জানান, মারধরের বিষয়টি আমলে নিয়ে স্কুল কমিটির মিটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষক জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঐ দিন ছাত্রীরা রং দিয়ে খেলছিল। এতে সিনিয়র শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন ভূইয়া তাদের শাসন করেন। এ সময় তিনি বেত দিয়ে তাদের আঘাত করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তিনি কোথা থেকে বেত পেয়েছেন তা জানা নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট পেয়ে যাব।

এ ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর মা রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তার মেয়ে হাজী নুর উদ্দিন আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩ জুলাই হতে ছুটি ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা শনিবার দুপুর ১২টায় স্কুল ছুটি হলে আনন্দ-উল্লাস করছিল। এ সময় তারা চুমকি (জরি) নিয়ে মাখামাখি করছিল। এতে স্কুলের শিক্ষক মো. জসিম তার মেয়েসহ দুই শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে বেত দিয়ে মারধর করে। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। বাদীর মেয়ে অজ্ঞান হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলের বারান্দায় পড়ে ছিল। পরে খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত আরেক ছাত্রীর মামা দাবি করেন, শিক্ষক জসিম তাদের মারধর করে গুরুতর আহত করেছেন। তারা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিল। বেত দিয়ে পিটিয়েছে, চড়-থাপ্পড় দিয়েছে এবং চুল ধরে টান দিয়েছে। এ ঘটনায় তারা পা ধরে মাফ চাইতে গেলে লাথি মারে। স্কুলের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। তাদের অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় আইসিইউতে নেয়া হয়েছিল। আইসিইউতে থাকার পর এখন বেডে নেয়া হয়েছে।

হাসপাতালের কর্মকর্তা শাহজাহান বলেন, শনিবার দুপুরে তাদের হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তারা বমি করা শুরু করে। অবস্থা খারাপ হলে আইসিইউতে নেয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি হলে বেডে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ নেয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!