শেষ মুহূর্তে সরগরম চট্টগ্রামের হাট
ঈদুল আজহার বাকি আর একদিন। গত কয়েকদিন ক্রেতার উপস্থিতি ও বেচাকেনা চোখে না পড়লেও শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে চট্টগ্রামের পশুর হাট। শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর সাগরিকা, বিবিরহাট ও কর্ণফুলীসহ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র।
নগরীতে এবার বসা সাতটি পশুর হাটের মধ্যে স্থায়ী হাট রয়েছে তিনটি এবং বাকি চারটি অস্থায়ী। স্থায়ী হাটগুলো হলো- সাগরিকা, পোস্তারপাড় (ছাগলের বাজার) ও বিবিরহাট। এছাড়া অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে- কর্ণফুলী, সল্টগোলা রেলক্রসিং, দক্ষিণ পতেঙ্গা (টিকে গ্রুপের মাঠ) ও পতেঙ্গার খেজুরতলা মাঠ।
পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা যায়- সামিয়ানা ও ত্রিপল টাঙিয়ে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের গরু। ক্রেতাদের পছন্দ হলে নিজেদের চাহিদামতো দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যাপারীরা। আর দরদামে মিলে গেলে ছেড়ে দিচ্ছেন রশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ- নিয়মের অতিরিক্ত ব্যাপারীরা দাম হাঁকাচ্ছেন। আর ব্যাপারীরা বলছেন তার বিপরীত।
.png)
গরু নিয়ে সাগরিকা বাজারে আসা কুষ্টিয়ার শামীম ব্যাপারী বলেন, ১৮টি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। ১২টি বিক্রি হয়েছে। গত কয়েকদিন হাটে তেমন ক্রেতা ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বেচাকেনা কিছুটা জমে উঠেছে। বাকি আর একদিন। চট্টগ্রামে আগের মতো পশু কোরবানির চাহিদা থাকলে বাকি গরুগুলোও চাহিদামতো দামে বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

আরেক ব্যাপারী কুমিল্লার মোহাম্মদ রশিদ বলেন, ২০টি গরু এনেছি। এর মধ্যে তিনটি বিক্রি হয়েছে। ক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন কম। দেখি শেষ পর্যন্ত কী আছে কপালে।
সাগরিকা ছাগলের বাজারের মিলন ব্যাপারী বলেন, করোনার কারণে মানুষ আর্থিক সংকটে থাকায় গত দু-তিন বছর ধরে ছাগলের চাহিদা কিছুটা বেশি। বিক্রিও হচ্ছে মোটামুটি। বাকি দুদিনে আরো ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
বিবিরহাট বাজারে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বশির ব্যাপারী বলেন, শহরের বাসিন্দাদের গরু রাখার মতো জায়গা নেই। ফলে বেশিরভাগই একদিন কিংবা দুদিন আগে গরু কেনেন। এর আগে কয়েকদিন ক্রেতা থাকলেও বেচাকেনা হয়নি। আজ থেকে কিছুটা বেচাকেনা হচ্ছে। মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি।
লালখান বাজার থেকে সাগরিকা বাজারে পশু কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ব্যাপারীরা গরুর দাম চাইছেন বেশি। সকালে এসেছি, এখন পর্যন্ত গরু কিনতে পারিনি। আজ সম্ভব না হলে চলে যাবো। কাল আবার আসবো।

আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ তাহের বলেন, বাজারে গরুর দাম খুবই বেশি। যারা নিচ্ছেন, তারা চড়া দামে কিনে নিচ্ছেন। এছাড়া ব্যাপারীরা শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেন প্রতি বছর। কারণ তারা জানেন চট্টগ্রামে গরুর চাহিদা বেশি। তবে এটাও সত্য যে- গত দুই বছরে কোরবানিদাতার সংখ্যা কমেছে। এবার যদি আরো কমে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কম দামে গরু ছাড়তে হবে তাদের।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে চট্টগ্রামে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পশুর সংখ্যা বেড়ে ৯৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পশুসম্পদ খামারের সংখ্যাও।
চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার কোরবানিতে পশুর চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আট লাখ ২১ হাজার। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ও নগরের তিন থানার আট হাজার ১৭১ জন খামারি মিলে সাত লাখ ৯১ হাজার ৫০১ পশু উৎপাদন করেছেন। যার মধ্যে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৩টি গরু, ৬৬ হাজার ২৩৭টি মহিষ, এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৬২টি ছাগল-ভেড়া ও ৯৯টি অন্যান্য পশু রয়েছে।