এ দই ঘরে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ কেজি দুধের দই বিক্রি হয়। তবে কোনো উৎসব হলে সেই বিক্রি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। এখানে কাচের গ্লাসে দই বিক্রি হয়। তবে প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম গ্লাসেও কিছু দই তৈরি হয়। যারা দই ঘরে এসে দইয়ের তৃপ্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা আবার ঐ প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম গ্লাসের দই বাড়ির জন্য নিয়ে যান। এখানে মাটির তৈরি পাতিলেও দই বিক্রি হয়। পাতিলসহ দুই কেজি ওজনের দইয়ের মূল্য মাত্র ২৫০ টাকা। কাচের গ্লাসের দই বিক্রি হয় ২৫ টাকায়।
দই বলতে প্রথমেই আমরা বগুড়ার দইয়ের কথা চিন্তা করি। শুধু দেশের মানুষ নয়, বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী দইয়ের কথা বিদেশিরাও জানেন। তবে অন্যান্য জেলায়ও রয়েছে দইয়ের ঐতিহ্য। তেমনি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার টেক মানিকপুরের দই ঘরও একটি ঐতিহ্য। এক সময় স্থানীয় কোনো বাড়িতে বিয়ে বা অন্য কোনো আয়োজন হলে নিজেরাই দই তৈরি করতেন। কিন্তু বর্তমানে আরামপ্রিয় মানুষ এখন আর বাড়তি ঝামেলা করেন না। তাবে যেকোনো অনুষ্ঠানে দই তো থাকতেই হবে। এ কারণে স্থানীয় মানুষের ভরসার জায়গা এই দই ঘর। বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিন অথবা অতিথি আপ্যায়ন হয় এই দই ঘরের দই দিয়ে। তবে বর্তমানে আমান সরকারের দেখাদেখি কালীগঞ্জের অনেকেই দই ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
.png)
দই ঘরের ব্যাপারে কথা হয় স্থানীয় দুই ইজিবাইক চালক আরিফ হোসেন ও সাইফুর রহমানের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিদিন ঢাকা, নারায়গঞ্জ ও গাজীপুর থেকে অনেক মানুষ এখানে দই খেতে আসেন।
ঢাকার রামপুরার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন কাউছার আহমেদ। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। মানিকপুরের দই ঘরের কথা শুনে দই খাওয়ার জন্য এসেছেন। প্রথমে এক গ্লাস খেয়ে ভালো লাগায় পরে আরো এক গ্লাস খেয়েছেন তিনি।
একই কথা বলেন ঐ প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মকর্তা ওবাইদুল কবির পরান। খেয়ে ভালো লাগায় তিনি বাড়ির জন্যও দই কিনেছেন।
টেক মানিকপুর বাজারের স্থানীয় কয়েকজন আমান সরকারের দই ঘরের ব্যাপারে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সঙ্গে চলছে এই দই ঘর। আশপাশের জেলাগুলোতেও রয়েছে এই দইয়ের কদর। আমান সরকারের দই ঘর দেখে স্থানীয় আরো অনেকেই এখন দইয়ের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
দই ঘরের সত্ত্বাধিকারী আমান সরকার বলেন, ১৯৯৭ সালের দিকে খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে দই তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতাম। পরে আস্তে আস্তে এই দইয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় বাড়তে থাকে আমার আয়োজনও। প্রায় ২৪ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে দই বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলছি। এখন এই দই ঘরের নাম শুনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটিসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ এখানে এসে দই খেয়ে যান। এছাড়া তারা বাড়ির জন্যও নিয়ে যান। কেউ কেউ আবার ফোন করেও অর্ডার করেন।