তিনি জানান, চালানটিতে এক হাজার ৪৩০ কার্টনে ১৫ হাজার ২০৪ লিটার বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদ পাওয়া গেছে। যা টেক্সটার্ড ইয়ার্ন অব পলিয়েস্টার ১০০ শতাংশ রিসাইকেল পোস্ট ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছিল। চালানটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দুই কোটি তিন লাখ টাকা। সে হিসাবে চালানটিতে ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছিল।
বেপজার ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) জালিয়াতি করে চালানটি এনেছিল নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিডি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেটি খালাসের লক্ষ্যে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার দোভাষ লেনের সিএন্ডএফ এজেন্ট জাফর আহমেদ।
.png)
ডেপুটি কমিশনার সাইফুল হক জানান, রফতানিকারক, তৈরি দেশ, আমদানিকারকের ব্যবসায়ের ধরন ও ঠিকানা, পণ্যের বর্ণনা প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে পণ্য চালানটির বিষয়ে এআইআর টিমের সন্দেহ হয়। পরে বেপজার ওয়েবসাইটে এ চালানের আইপি যাচাই করে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে শনিবারই চালানটি সিলগালা করা হয়।
এর আগে আইপি জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা দুই কনটেইনার মদ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়। র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে এসব মদ উদ্ধার করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা।
উদ্ধারের পর কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, কনটেইনার দুটিতে এক হাজার ৩৩০ কার্টনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩১ হাজার ৬২৫ দশমিক পাঁচ লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায়। এসব মদের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য চার কোটি ৪৬ লাখ টাকা। উচ্চ শুল্কের পণ্য হওয়ায় দুই চালানে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়। চালান দুটিতেও সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিল ডবলমুরিং থানার দোভাষ লেনের জাফর আহমেদ।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর পেছনে রয়েছে একটি পারিবারিক সিন্ডিকেট। বাবা ও দুই ছেলের ওই সিন্ডিকেট ভুয়া গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নামে দুবাই থেকে মদের এ বিশাল চালান দেশে আনার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে র্যাব। তাদের মধ্যে সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী দুই ছেলের একজন রয়েছেন।