বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১ এর বিচারক মোস্তফা কামাল এ রায় দেন। এ সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- রফিকুল ইসলাম ও শাহ আলম।
জানা গেছে, ২০০২ সালের ১৪ মে উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে একই এলাকায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই দিন রাতে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে রফিকুল ইসলাম ও শাহ আলম তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ফসলের মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
.png)
এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা করেন ওই কিশোরীর বাবা। পরে বিচারক পীরগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক খলিলুর রহমান তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ জুন তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করে। মামলায় ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
এছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। উভয় দণ্ডই একসঙ্গে পালন করার আদেশ দেন।
সরকারী আইন কর্মকর্তা রফিক হাসনাইন এজানান, ২০ বছর পরে হলেও নাবালিকা কিশোরী মেয়েকে অপহরন করে ধর্ষনের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেছেন এ রায়ে বাদী ও সরকার পক্ষ সন্টুষ্টি প্রকাশ করছে।
সরকার পক্ষের পিপি রফিক হাসনাইন অ্যাডভোকেট বলেন, ২০ বছর পরে হলেও কিশোরী মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ প্রদানে বাদী ও সরকার পক্ষ সন্তুষ্ট।