ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কক্সবাজারে এইডস  ছড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:২৭, ২৯ জুলাই ২০২২
কক্সবাজারে এইডস  ছড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
রোহিঙ্গা ক্যাম্প- ফাইল ফটো

রোহিঙ্গারা আসার আগে এইডস রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল না। কিন্তু তারা বাংলাদেশে আসার পর এ রোগ বেড়েছে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের অনেকেই এইচআইভিতে আক্রান্ত ছিল।কিন্তু দীর্ঘদিন তারা বিষয়টি গোপন রাখে। ফলে তাদের অবাধ মেলামেশা ও কক্সবাজার এলাকায় বেশি সংখ্যক মানুষের (রোহিঙ্গা) বসবাসের কারণে এইচআইভি ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

এভাবেই পর্যটন নগরী কক্সবাজার এইচআইভি (এইডস) ভাইরাসের ঝুঁকিতে চলে যাচ্ছে। গত জুন মাসে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। এ নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজারে এইডস রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১০ জন। এরমধ্যে ৬১২ জনই রোহিঙ্গা। 

Advertisement

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র আরো জানায়, কক্সবাজার জেলায় ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ৭১০ জনের মধ্যে সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে ৫০৫ জন ও উখিয়া হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০৫ জন। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ১১৮ জনের মধ্যে ৬১ জন রোহিঙ্গা এবং ৫৭ জন স্থানীয় বাসিন্দা।

জানা গেছে, এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোহিঙ্গার সংখ্যা বেশি। রোহিঙ্গাদের অসচেতনতার কারণে তাদের কাছ থেকে এ রোগ কক্সবাজারের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাফেরার কারণে এ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউসে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা তরুণীর যাতায়াত রয়েছে। আর এ কারণে এ রোগটি এখানে ছড়াচ্ছে বেশি।

এ ছাড়া পর্যটন শহর হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে যৌনকর্মীদের ব্যাপকহারে কক্সবাজার এলাকায় আগমন ও এইডস বিস্তারের আরেকটি অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয়দের মেলামেশা হচ্ছে। এমনকি যৌন সম্পর্কেও জড়াচ্ছে অনেকে। এ ছাড়াও কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় রোহিঙ্গা নারীদের অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। যদি সচেতনতা অবলম্বন ও যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকা যায় তবে এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান জানান, এই রোগটি রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ছে। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের আলাদা না করার কারণে এ রোগ আরো ব্যাপকভাবে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ/এমআরকে
ট্যাগ: রোহিঙ্গা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!