বুধবার (১০ আগস্ট) সকালে ওই পার্কের একটি ঘর থেকে তার গলা কাটা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওই ঘরটিসহ পাশের ঘর থেকে অসামাজিক কার্যক্রমে ব্যবহারিত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত সবুজ মিয়া পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রায়ভংগী গ্রামের মৃত শরিফ উদ্দিনের ছেলে। সে ১০-১৫ দিন ধরে পার্কটিতে দিনের বেলা মুদিখানার দোকান করত এবং রাতে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করত।
.png)
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ক্রাইমসিন দলের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করেছেন। তারা জানান, নিহত ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তার বুক ও পিঠে চাকু দিয়ে জখম করা হয়েছে।
পার্কটিতে কর্মরত লোকজন জানান, ঘরটিতে রাতে তিনজন পতিতা নারী ছিল। তারাই সকালে লাশ দেখতে পেয়ে আরেক নিরাপত্তা কর্মীর মাধ্যমে পার্ক মালিককে খবর দেয়। পরে পার্ক মালিক থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
স্থানীয়রা জানান, পার্ক মালিক মোজাম্মেল দীর্ঘদিন থেকেই সেখানে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পতিতা নারীদেরকে নিয়ে এসে অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করত। এই ব্যবসা পরিচালনার জন্য সে পার্কটিতে বেশ কয়েকটি কুঠরি ঘর নির্মাণ করেছে। এই হত্যাকাণ্ড এই পতিতা ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই হয়েছে। তারা পার্ক মালিক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
ঘোড়াঘাট থানার ওসি আবু হাসান কবির বলেন, কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা আমরা এখনও নিশ্চিত না। পুরো ঘটনা আমরা তদন্ত করে দেখছি। আশা করি অতি দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. রহিম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের লোকজন এসেছে।
অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত এপ্রিল মাসে পার্কটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে দুইজন পতিতা এবং দুইজন খদ্দেরসহ পার্কটির মালিক মোজাম্মেল হক মোজাম ও তার জামাতাকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইউএনও মালিক এবং তার জামাতাকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।
একই মাসে পৃথক আরো একটি অভিযানে এক ইউপি সদস্য সহ একজন পতিতাকে আটক করেছিল পুলিশ।