ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পরকীয়া প্রেমিক যুগল, সারারাত শিকলে বেঁধে নির্যাতন 

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৪১, ১৪ আগস্ট ২০২২
আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পরকীয়া প্রেমিক যুগল, সারারাত শিকলে বেঁধে নির্যাতন 
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার চাটমোহরে অনৈতিক কাজের সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েছে পরকীয়া প্রেমিক যুগল। তাদেরকে সারারাত শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার নিমাইচড়া ইউপিতে এ  ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার রাতে নিমাইচড়ার করোকোলা গ্রামের আব্দুল খালেকের বাড়িতে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, করোকোলা গ্রামের এক সন্তানের জননীর সঙ্গে পার্শবর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউপির হঠাৎপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামে ছেলে এক সন্তানের জনক মো. হেলাল উদ্দিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শাপলার ঘরে প্রবেশ করে হেলাল। এ সময় এলাকাবাসী টের পেয়ে তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে সারারাত অমানবিক নির্যাতন চালায়।

Advertisement

পরে শনিবার সকালে তাদেরকে নিয়ে আসা হয় নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম মুক্তি এবং তার বোন অষ্টমনিষা ইউপির চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল সালিশি বৈঠক করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা সালিশি বৈঠকে প্রেমিক হেলালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রেমিকাকে ফিরিয়ে নিতে স্বামীকে বলা হয়।

হেলাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিষদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছে। এই টাকা পরিষদের চৌকিদারসহ লোকজনরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। ’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে গৃহবধূর স্বামী সুমন আলীর কল রিসিভ করেননি। 

নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম মুক্তি বলেন, এলাকার ব্যক্তিবর্গ ও পাশ্ববর্তী অষ্টমনিষার চেয়ারম্যান আমার বড় বোন সুলতানা জাহান বকুল আপার উপস্থিতিতে তাদের সাংসারিক ও সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টি মিটমাট করে দেয়া হয়েছে। কারো প্রতি জোর-জুলুম করা হয়নি।  

অষ্টমনিষা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল বলেন, ‘সালিশের পুরো সময় ছিলাম না। জরুরি কাজে চলে এসেছিলাম। পরবর্তীতে কি হয়েছে জানি না। নির্যাতনের বিষয়টিও জানতাম না। ’

চাটমোহর থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। রাতে ওই যুগল আটক হলে আজ সকালে স্থানীয়রা বসে সমাধান করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বা জরিমানা হয়েছে কিনা জানি না। নির্যাতনের বিষয়টিও জানা নেই। কেউ যদি থানায় অভিযোগ দেয়, তাহলে অবশ্যই  প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!