গানের শব্দ কমাতে বলায় প্রতিবেশীকে খুন, এরপর পালিয়ে যান চট্টগ্রাম
রাজশাহীতে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী হত্যার ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনকে চট্টগ্রামে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শনিবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদাম বিবিরহাট ও উত্তর সলিমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।
গ্রেফতাররা হলেন- রাজশাহী শহরের শাহমখদুম থানার হরিষার ডাইং এলাকার আছের উদ্দিনের ছেলে মো. বকুল আলী, তার স্ত্রী আমেনা ও ছেলে মো. নাহিদ হোসেন।
র্যাব জানায়, গত ১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে উচ্চশব্দে গান শুনছিলেন নাহিদ। প্রতিবেশী মুকুল আলীর মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় নাহিদকে উচ্চশব্দে গান বাজাতে নিষেধ করেন তিনি। নাহিদ তাৎক্ষণিক গানের শব্দ কমিয়ে দিলেও মুকুল আলী চলে যাওয়ার পর পুনরায় বাড়িয়ে দেন। এরপর মুকুল আলী আবারো নাহিদের বাড়িতে গিয়ে একই অনুরোধ জানালে এবার নাহিদসহ পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন।
কিন্তু এতেও থেমে যাননি তারা। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে মুকুলের মাথায় আঘাত করেন। এছাড়া চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। মুকুলের চিৎকার শুনে তার ছোট ছেলে শাহীন আলম ও জামাতা আলমগীর সেখানে গেলে তাদেরকেও মারধর এবং চাকু দিয়ে আঘাত করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে নাহিদসহ সবাই পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় মুকুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তিনি মারা যান।
ওই ঘটনায় পরদিন শাহমখদুম থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো তিন-চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের ছেলে মো. শামীম ইসলাম। মামলার পর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু বাবা-মাকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান নাহিদ।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, ১৫-২০ বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে মুকুল আলী ও বকুল আলীর পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। মুকুল আলীকে হত্যার পর রাজশাহী থেকে পালিয়ে বাবা-মাকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে আসেন নাহিদ। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সীতাকুণ্ডে তাদের অবস্থানের তথ্য পায় র্যাব। সেই তথ্যে শনিবার বিকেলে উপজেলার মাদাম বিবিরহাট ও উত্তর সলিমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, গত ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে আসেন তারা। পরে সলিমপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।