ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রবাসীর স্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে ধরা খেলেন ‘জিনের বাদশা’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩৩, ২১ আগস্ট ২০২২
প্রবাসীর স্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে ধরা খেলেন ‘জিনের বাদশা’
উদ্ধার হওয়া পিতলের মূর্তি, তসবিহ ও মোবাইল ফোন

আস্ত মানুষ হলেও নিজেকে পরিচয় দেন ‘জিনের বাদশা’। প্রবাসীর স্ত্রীকে ফোন করে সোনার মূর্তি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন টাকা। এরপর মূর্তি তো দেননি, দ্বিতীয় দফায় স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে পশু কোরবানি ও সোনার মূর্তি দিতে দাবি করেন আরো বড় অংকের টাকা।

প্রথমবার সরল বিশ্বাসে টাকা দিলেও দ্বিতীয় টোপে ঘুম ভাঙে প্রবাসীর স্ত্রীর। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাতেন সেই জিনের বাদশাকে ধরার ফাঁদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন এলাকায়। এরপরই হাতেনাতে ধরে সোপর্দ করেন থানায়।

শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানী দীঘিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কথিত জিনের বাদশার নাম রাকিব শেখ। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মারিয়া কাটুপাড়া এলাকার আলী আহম্মদ শেখের ছেলে।

Advertisement

আটক রাকিব শেখ

জানা গেছে, ১০ আগস্ট মধ্যরাতে মায়ানী এলাকার প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীকে ফোন করে নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দেন রাকিব। ওই সময় তাকে সোনার মূর্তি দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ১০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর মূর্তি দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে পরদিন আবারো ওই গৃহবধূকে ফোন করেন তিনি। এবার স্বামী-সন্তান মারা যাবে জানিয়ে পশু কোরবানি ও সোনার মূর্তি দেওয়ার কথা বলে দাবি করেন আরো এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

টাকার বিষয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে রাকিবের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ি ও আশপাশের লোকজনদের জানান ওই গৃহবধূ। এরপর রাকিবকে ধরতে পাতা হয় ফাঁদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে রাখা হয় টাকা। শনিবার সন্ধ্যায় টাকাগুলো নিয়ে মূর্তিটি সেখানে রেখে যাওয়ার সময় হাতেনাতে রাকিবকে আটকের পর থানায় সোপর্দ করা হয়। 

মীরসরাই থানার এসআই খায়রুর বলেন, কথিত জিনের বাদশাকে আটকের পর আমাদের খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তার কাছ থেকে একটি পিতলের মূর্তি, একটি তসবিহ ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শহীদ। সে মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এসআই আরো বলেন, এভাবে জিনের বাদশা সেজে গ্রামের সহজ-সরল নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে একটি অসাধু চক্র। এ ব্যাপারে সচেতনতার বিকল্প নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!