শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নারচী ইউপির গনকপাড়া গ্রামের কৌডালা (মালো) পাড়ার বিশু প্রামাণিকের বাড়িতে রুবি বেগমকে সালিশি বৈঠকে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করেন নারচী ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, সারিয়াকান্দির ধাপ গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে ‘জিনের বাদশা’ নামে পরিচিত কবিরাজ আব্দুল খালেক মালোপাড়ার রুবি নামের এক নারীকে ধর্ম মেয়ে বানায়। গত শুক্রবার রাতে কবিরাজ আব্দুল খালেক ধর্ম মেয়ের বাড়িতে যায়। এসময় সে ওই এলাকার সব কাঁচা বাড়ি পাকা হবে জানিয়ে ঘরের আলাদা রুমে ধ্যানে বসেন। ধ্যানে সফল হওয়ার জন্য শেষ রাতে রুবির যুবতী মেয়েকে খালেক কবিরাজ ওই রুমে ডেকে নেয়। পরে সকাল ৭টার দিকে ইউপি সদস্য তরিকুল লোকজনসহ তাদের বাড়িতে গিয়ে কবিরাজ আব্দুল খালেক এবং মেয়েটিকে আটক করেন। এরপর কবিরাজ আব্দুল খালেককে মারপিট করা হয়। পরে বিশু প্রামাণিকের বাড়িতে তরিকুল ও হুমায়ুন মেম্বারের নেতৃত্বে সালিশি বৈঠক বসে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে শত শত লোকজন সেখানে ভিড় জমায়। সালিশি বৈঠকে কবিরাজ আব্দুল খালেকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মারপিট শেষে কান ধরে ওঠবস করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর লাঠি দিয়ে রুবি বেগমকে বেদম মারপিট করেন ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম।
.png)
নারীকে সালিশি বৈঠকে মারপিট করার কারণ জানতে চাইলে ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তিন বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। আমার ওয়ার্ডে কীভাবে বিচার হবে সেটা আমার বিষয়।’
সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘রুবি বেগম বাদী হয়ে ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রোববার তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’