ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

গরিবদের ধনী বানানোর আশ্বাস দিয়ে কোটিপতি হয় ‘জিনের বাদশা’  

নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত: ২১:০৯, ১১ মার্চ ২০২২
গরিবদের ধনী বানানোর আশ্বাস দিয়ে কোটিপতি হয় ‘জিনের বাদশা’  
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘মুমিন মুসলমান’ নামের পেজের ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়দানকারী সরোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, সরোয়ার নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে সহজ, সরল ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করে আসছিলেন। সরোয়ার ও তার সহযোগীরা এরই মধ্যে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

র‍্যাব আরো জানায়, জিন, জাদুটোনা, ব্ল্যাকমেইল, বদনজর ও কুফরি কালামের প্রভাবে মানুষের ক্ষতির সমাধান করার ভুয়া ভিডি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত প্রচার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিজ্ঞাপন দেখে আরোগ্য হওয়ার আশায় শারীরিক অসুস্থ নারী ও পুরুষরা জিনের বাদশা পরিচয় প্রদানকারী সরোয়ারের কাছে কবিরাজী চিকিৎসার জন্য আসেন। এ সুযোগে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে চক্রটি।

Advertisement

র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক (অপস অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ জানান,  ‘কাগজ হয়ে যায় টাকা’ ও ‘অসুস্থ হলে সুস্থ করে দেবে জিন’ এমন বিভিন্ন অকৌশল অবলম্বন করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। চক্রের সদস্যরা  নিরীহ মানুষকে রোগ থেকে মুক্তিদান, স্বল্পসময়ে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাদের বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী র‍্যাব-১-এর কাছে অভিযোগ দেয়। ফলশ্রুতিতে র‍্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‍্যাব-১ রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ কোর্টবাড়ী বাজারস্থ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা সরোয়ারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে মামালা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পঞ্চগড়ের মো. সারোয়ার হোসেন (২৭), পঞ্চগড়ের মো. লাজু পারভেজ (২৭) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবদুর রহমান (২৪)।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট, একটি চেকবই, সাতটি এটিএম কার্ড, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, একটি প্রেস আইডি কার্ড, একটি ল্যাপটপ, দুটি মাইক্রোফোন, একটি ক্যামেরা, দুটি সিসি ক্যামেরা, ৯০০ টাকা মূল্যের বাংলাদেশি জালনোট, ছয়টি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড ও নগদ ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১-এর কর্মকর্তা নোমান আহমদ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সাধারণত স্বল্পআয়ের মানুষদের টার্গেট করত। তারা বিভিন্ন জেলার হতদরিদ্র সাধারণ নিরীহ মানুষদের রোগ থেকে মুক্তিদান, স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রলোভন দেখাত। এতে স্বল্প আয়ের মানুষরা সহজেই প্রলুব্ধ হতো। এই চক্রটি দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা বাবদ প্রথম সাক্ষাতে এক হাজার টাকা করে ফি গ্রহণ করত।

পরবর্তীতে গরিব অসহায় রোগীদের কাছে বিভিন্ন ধাপে ঝাঁড়ফুক, জিন তাড়ানোসহ ভুয়া কবিরাজি চিকিৎসার নামে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নিত। সাধারণ মানুষ তাদের প্রতারণা সম্পর্কে জানার আগেই চক্রটি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করত এবং নতুন এলাকায় গিয়ে পুনরায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করত। এভাবে তারা শত শত সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সারোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সে একজন পোশাক শ্রমিক ছিল। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। সে কোনোদিন মাদরাসায় পড়ালেখা না করলেও কিংবা চিকিৎসা পেশায় কোনো প্রশিক্ষণ না থাকার পরেও নিজেকে চিকিৎসক ও মাওলানা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করত। সে তার সহযোগীদের সঙ্গে ২০১৯ সালে গাজীপুরের কাশিমপুরস্থ লতিফপুর এলাকায় ভুয়া কবিরাজীর মাধ্যমে অসহায় নিরীহ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতারণা সম্পর্কে জানার আগেই তারা অবস্থান পরিবর্তন করে দক্ষিণখানস্থ ফায়দাবাদ এলাকায় এসে মানুষকে প্রতারিত করতে থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!