নিহতের নাম নাজমা বেগম। ৩২ বছরের নাজমা সদর উপজেলার গোকুল মধ্যপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের মেয়ে। তার স্বামীর নাম শহীদ হোসেন। ৩৮ বছরের শহীদ সাতশিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে শহীদের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। মাঝে মধ্যেই তাদের ঝগড়া হতো।
.png)
নিহতের পরিবার জানায়, শহীদ পেশায় একজন গাড়িচালক। প্রায় চার মাস আগে কাজের সন্ধানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে যান তিনি। সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তবে কোনো কাজ না পাওয়ায় বেকার থাকেন শহীদ।
নাজমার ভাই সোবহান জানান, মঙ্গলবার রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নাজমা মারা গেছেন বলে মুঠোফোনে জানান তার দুলাভাই শহীদ। বুধবার সকালে নাজমার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। বোনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ভেবে সবাই লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। লাশ গোসলে নেয়ার পর নাজমার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্নের দেখা মেলে। বিষয়টি নিয়ে কথা উঠতেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান শহীদ।
তিনি আরো জানান, নাজমা ও শহীদের ঝগড়া লেগেই থাকতো। এর আগেও নাজমার শরীরে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টা করেছিলেন শহীদ। তবে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল।
সোবহান জানান, তার বোন নাজমাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খুনের বিষয়টি ঢেকে রাখার জন্য ডায়রিয়ায় নাজমা মারা গেছেন বলে ছড়ানো হয়।
বগুড়া সদর থানার এসআই জাকির আল-আহসান জানান, নাজমার লাশ উদ্ধার করে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।