এ তেঁতুল গাছ রোপণ করেছেন গাংনী উপজেলার নওপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দীনের ছেলে শহিদুল রহমান। ১৯৮২ সালে মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন তিনি। ছাত্র জীবন থেকেই বৃক্ষ রোপণ করতেন তিনি। শখের বশেই গাংনী-কাথুলি সড়কের নওপাড়া থেকে কালিগাংনী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার শতাধিক তেঁতুল ও জাম গাছ রোপণ করেন শহিদুল রহমান। তার ছাত্র জীবনে রোপিত সেই গাছগুলোই এখন ফুলে-ফলে শোভিত।
শহিদুল রহমান জানান, গাছ মানুষের পরম বন্ধু। গাছ না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। মুক্ত অক্সিজেন নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে। তাই গাছ লাগাতে হবে। তিনি গাছ রোপণ করেছেন কোনো টাকা-পয়সা আয় করতে নয়। শহিদুলের চাওয়া, গাছগুলো থেকে এলাকার মানুষ থেকে ফল খাবে এবং শীতল ছায়ায় তাদের প্রাণ জুড়াবে।
.png)
তিনি আরো জানান, গাছের শীতল ছায়ায় মানুষের প্রাণ জুড়ালেই তার প্রশান্তি। গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করেন তিনি। শহিদুল রহমান যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে বলেন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শত বছর বয়সী অহিরণ নেছা তার পুত্রবধূ আর কয়েকজন নাতি-নাতনি নিয়ে গরমে একটু শীতল হাওয়ার স্বাদ নিতে বসেন তেঁতুল গাছের ছায়ায়। শুধু অহিরণ নেছা নয় গাছের ছায়ায় আসেন গ্রামের কৃষক আস্তফা আলী, মুক্তার হোসেন কিশোর নাজমুল হকসহ অনেকেই।
কৃষক আস্তফা আলী জানান, মাঠে তো এখন গাছ কম। তাই মাঠে কাজ করে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি তখন এই তেঁতুল গাছের নিচে এসে বসি। এখানে আসলেই তেঁতুল গাছের শীতল ছায়ায় প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এ মাঠের প্রায় সব কৃষকই শরীর জুড়াতে আসেন রাস্তার পাশে সারিসারি দাড়িয়ে থাকা তেঁতুল গাছের নিচে।
নওপাড়া গ্রামের আবু হানিফ বলেন, শহিদুল রহমান গাছগুলোকে নিজের সন্তানের মতো পরিচর্যা করেন। শুধু শহিদুল রহমান নয় গ্রামের সব লোকই গাছগুলোকে নিজের মতো পরিচর্যা করে থাকেন।

তিনি শহিদুল রহমানকে বৃক্ষবন্ধু উল্লেখ করে বলেন, তার মতো নিঃস্বার্থ বৃক্ষবন্ধু এলাকায় একজনও নেই। শহিদুল রহমানের লাগানো গাছে প্রচুর পরিমাণ তেঁতুল ও জাম ধরে। এলাকার লোকজন ছাড়াও মেহেরপুর জেলা শহর ও গাংনী উপজেলা শহরের বিভিন্ন লোকজন তেঁতুল ও জাম বিনা টাকায় নিয়ে যান এখান থেকে।
গাংনী শহরের ইউনানি চিকিৎসক মজিবুর রহমান জানান, তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ বিদ্যমান। এর মধ্যে পটাশিয়াম, কপার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম উল্লেখযোগ্য। পটাসিয়াম আমাদের জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হার্টের জন্য এর উপকারী ভূমিকা রয়েছে। আমাদের লাল রক্তকণিকার মূল উপাদান আয়রন। কাজেই তেঁতুল রক্তের জন্য ভালো। এছাড়া আয়রন আমাদের খাদ্য হজমের এনজাইম গঠনে কাজ করে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন ‘বি’ (থায়ামিন), ভিটামিন ‘এ’, ফলিক এসিড, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন এবং ভিটামিন ‘সি’। তেঁতুল চিকিৎসাশাস্ত্রে বহুল ব্যবহৃত।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা জানান, শহিদুল রহমান একজন নিঃস্বার্থ বৃক্ষবন্ধু। রাস্তার দুই পাশে লাগানো সারিসারি তেঁতুল গাছগুলো শুধু গ্রামবাসীকেই নয়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্লান্ত পথিককেও দিচ্ছে নির্মল বাতাস। আমরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।