ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে ঠিকই, কিন্তু দেশে ফিরলেন লাশ হয়ে

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে ঠিকই, কিন্তু দেশে ফিরলেন লাশ হয়ে
মো. সুমন মিয়া-ফাইল ফটো

পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে ধারদেনা করে কাতারে যান মো. সুমন মিয়া। ঐ জায়গায় তিনি একটি কোম্পানির গাড়ি চালকের কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই অনেক স্বপ্ন দেখতেন তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। কাতারে যাওয়ায় পর দিন রাত পরিশ্রম করে তার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। যাওয়ার পর তিনি একবার দেশে আসেন।

এদিকে বাড়িতে চলছে তাদের নতুন ঘর নির্মাণের কাজ। বাড়ির কাজ ও প্রায় শেষ পর্যায়ে চলছে। বাবা-মা তাকে বিয়ে করানোর জন্য মেয়ে দেখছিল। কয়েক মাসের মধ্যে তার দেশে আসার কথা। কিন্তু তিনি দেশে আসলেন ঠিকই তবে জীবিত নয় লাশ হয়ে। গত ৭ সেপ্টেম্বর কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান প্রবাসী সুমন।

নিহত সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের মো. মান্নার মিয়ার ছেলে। তার লাশ কাতার থেকে সোমবার সকালে দেশে আনা হয়েছে । এ দিকে তার লাশ বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে সড়ক পথে  গ্রামের বাড়িতে আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Advertisement

২০১৬ সালে  সুমন কাতারে যান ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে সুমন ছিল সবার বড়।

জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান প্রবাসী সুমন। পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে ১২ দিনের মাথায় তার  মরদেহ দেশে আনা হয়।

লাশ গ্রামের বাড়িতে  আনা হলে এক নজর দেখতে ভিড় করেন পাড়া প্রতিবেশীসহ স্বজনেরা।

উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের চাঁনপুর দক্ষিণপাড়ার ইউপি সদস্য অহিদ ভূঁইয়া বলেন, সুমন খুবই একজন ভালো ছেলে ছিল। অনেক কষ্ট করে সে কাতারে যায়। এরপর এই পরিবারটা খুবই ভালোভাবে চলছিল। সামনে দেশে আসার ও কথা ছিল। কিন্তু তার এই মৃত্যু কিছুইতে মেনে নেওয়া যায় না।

ছেলের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, এবার তার ছেলে সুমন দেশে আসলে ধুমধাম করে তাকে বিয়ে করাতাম। তার আসাকে কেন্দ্র করে বাড়ি ঘর নির্মাণ কাজও প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু  সে এসেছে  আজ লাশ হয়ে। সে  ছিল আমার সব আশা ভরসা। আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান বলেন, সুমন একজন  ভালো মনের মানুষ ছিল। ২০১৬ সালে কাতারে গিয়েছিল। গত ৭ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ।  অসময়ে তার এই মৃত্যু কিছুইতে মেনে নেওয়া যায় না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!