বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাবিবা মণ্ডল এ রায় দেন। এ সময় আদালতে আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) নাছিমুল করিম হলি।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পালাশন গ্রামের গোলাপ হোসেন, জিল্লুর রহমান ও খারতাপাড়ার ফরহাদ মণ্ডল। নিহত চায়না খাতুন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত গোলাপ হোসেনের সাবেক স্ত্রী ছিলেন।
.png)
জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ রাতে শেরপুরের পালাশন গ্রামে চায়নার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ ওই গ্রামের এক বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে গুম করা হয়। এ ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক পর গ্রামবাসী চায়নার লাশ উদ্ধার করেন। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ভাই বাদী হয়ে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার বছর দুয়েক পর মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আরো পড়ুন >>> সন্তানকে ডোবায় ছুড়ে মা বললেন ‘সাপ ফেলে দিয়ে আসছি’
আরো জানা যায়, ১৯৯৪ সালে চায়নার সঙ্গে গোলাপের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকে তাদের পারিবারিক কলহ শুরু হয়। অবশেষে বিয়ের এক বছরের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু এরপরে চায়নার সঙ্গে গোলাপের সম্পর্ক ছিল। বিচ্ছেদের পরেও তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিলেন না গোলাপের পরিবার। বিষয়টি নিয়ে গোলাপের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তার নিজ পরিবার। পরবর্তীতে চায়নার সঙ্গে সম্পর্ক চিরতরে বিচ্ছিন্ন করতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে গোলাপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী চায়নাকে ডেকে নেন। পরে জিল্লুর ও ফরহাদের সহযোগীতার তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুম করেন গোলাপ। এই হত্যা মামলার আরেক আসামি জহুরুল হক মারা গেছেন। তিনি গোলাপের বাবা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) নাছিমুল করিম হলি বলেন, রায় ঘোষণার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।