বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রামের গাজীর পাড়া এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে আসাদুল, একই গ্রামের বাজার পাড়ার পাইলটের ছেলে সুমন, একই গ্রামের হাতির পাড়ার বাসিন্দা ছাবের ও দর্গা পাড়ার বাসিন্দা জামিল এবং মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের হান্নান মন্ডলের ছেলে মিনাল।
.png)
রায় ঘোষণার সময় আসাদুল ও মিনাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিল, সুমন ও ছাবের পলাতক রয়েছেন। এছাড়া মামলার আসামি টোকন, জাহাঙ্গীর ও ইয়ারুলের মৃত্যু হওয়ায় হত্যার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রাম থেকে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে মনিরুল ও তার ছোট ভাই মাসুমকে পূর্ব শত্রুতার জেরে অপহরণ করেন আসামিরা। ঐদিন রাতে গুলি করে মনিরুল ও মাসুমকে হত্যা করেন আসামিরা। পরদিন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কোদালকাটি মাঠের একটি হলুদ ক্ষেত থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতদের মা ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতী এলাকার মনছুর আলীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত তারিখে বিচারক মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে আপন দুই ভাইকে গুলি করে হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন।