ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মহাসড়কে রড ফেলে ডাকাতি, ডাকাতদের যেভাবে ধরল পুলিশ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ২৩ অক্টোবর ২০২২
মহাসড়কে রড ফেলে ডাকাতি, ডাকাতদের যেভাবে ধরল পুলিশ
ডাকাতির কবল থেকে ডেনমার্ক প্রবাসী যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ (ছবি: সংগৃহীত)

কিছুদিন আগে দেশে এসে ডাকাতের কবলে পড়েছেন ডেনমার্ক প্রবাসী হোসাইন খান। শনিবার একটি সেডান গাড়ি নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার মাটিয়ারা এলাকায় ডাকাতের কবলে পড়েন।

প্রবাসী হোসাইন খান যেখানে তিনি ডাকাতের কবলে পড়েছিলেন, এর আগেও ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

ওই এলাকায় এর আগেও বেশ কয়েকবার ডাকাতি হয়েছে জানিয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী জানান, চক্রটা দীর্ঘদিন ধরে এসব করে আসছিল, আমাদের একেবারে জ্বালিয়ে ফেলছিল। আমরা ওই এলাকায় একটা মোবাইল (টহল) পার্টির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। যেহেতু ওখানে ঘটনা ঘটে। ওদের এতো সাহস হয়ে গেছে, কাল ওখানে টিম থাকার পরেও ডাকাতির সাহস করেছে। 

Advertisement

তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে এই ডাকাত বাহিনীটা গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাহিনীতে রয়েছে, তবে বেশিরভাগ বিভিন্ন জেলার লোকজন এসে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যেদিন ডাকাতির ঘটনা ঘটাবে, সেদিন এসে তারা একসঙ্গে জড়ো হয়। ডাকাতির পর মালামাল ভাগ করে আবার নিজ নিজ এলাকায় চলে যায়। ফলে পুলিশ চেষ্টা করার পরেও দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটিতে ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। অপরাধীদের এই চক্রটি সবসময় একই পদ্ধতিতে ডাকাতি করতো।

আরো জানা গেছে, একজন সামনের দিকে থাকে। যখন প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস আসে, তখন সেই ব্যক্তি গাড়ির সামনের চাকার দিকে রড ছুঁড়ে মারে। রডের সাইজ হয় এক থেকে দেড় ফিট। চলন্ত গাড়ির নিচে রড লেগে শব্দ হয়। তখন গাড়িতে কোনো সমস্যা হয়েছে মনে করে চালক কিছুটা দূরে গিয়ে গাড়ি থামায়। সেখানেই দলের বাকি সদস্যরা আগে থেকেই ওত পেতে থাকে। তারা তখন চালককে আটক করে এবং বাকি যাত্রীদের গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে লুটপাট করে। পাশেই ফাঁকা জমি আছে। সেটার ভেতর দিয়ে তারা হেঁটে চলে চলে যায়।

পুলিশ বলছে, সোনারগাঁও, চান্দিনা, ফেনী, চৌদ্দগ্রামেও একই পদ্ধতিতে মহাসড়কে ডাকাতি হয়। তবে একই চক্র করে কিনা, তা পুলিশ নিশ্চিত নয়। কিন্তু তারা ধারণা করেন, এই চক্রটি ঘুরে ঘুরে ডাকাতি করে থাকতে পারে।

একই ঘটনা ঘটেছে হোসাইন খানের ক্ষেত্রেও। থানায় দায়ের করা এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার ধানমণ্ডিতে চাচার বাড়ি থেকে চট্টগ্রামে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে মহাসড়কের কুমিল্লা এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ গাড়ির নিচে শব্দ হয়। তখন চালক রাস্তার একপাশে গাড়ি থামিয়ে পরীক্ষা করতে যায়। সেই সময় তিনি ডাকাতের কবলে পড়েন।

ডাকাত দলটিকে পুলিশের যে টিম ধরেছে, তাদের এক পুলিশ সদস্য জানান, মাটিয়ারায় টহল দেওয়ার সময় দেখলাম একটা প্রাইভেট গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে গেছে। তারা যখন সেটা পাল্টানোর কাজ করছিল, আমরা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেই সময় খবর পেলাম, কিছুদূরে একটা প্রাইভেটকারের কয়েকজন যাত্রীকে মারধর করা হচ্ছে। 

আমরা যখন সেখানে গেলাম, তারা পুলিশের পোশাক দেখে সরে যায়। যখন আমরা তাদের ধাওয়া করতে শুরু করলাম, তখন তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। আমরাও পাল্টা গুলি করতে বাধ্য হই। এভাবে ধাওয়া করে ফাঁকা জমির মধ্যে গিয়ে আমরা দুইজনকে ধরে ফেলি। বাকিরা পালিয়ে যায়। দুজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দলে ৮/১০ জন সদস্য ছিল, তাদের কয়েকজনের নাম জানা গেছে। বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

তিনি জানান, ডেনমার্ক প্রবাসী ব্যক্তির মোবাইল ছাড়া বাকি সব মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি ডাকাতির মামলা, অন্যটি অস্ত্র মামলা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: ডাকাতি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!