ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কুকুরের কামড়ে প্রাণ গেল তেঁতুলিয়া ইকো পার্কের হরিণ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১০, ১২ নভেম্বর ২০২২
কুকুরের কামড়ে প্রাণ গেল তেঁতুলিয়া ইকো পার্কের হরিণ
ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইকো পার্কের একটি চিত্রা হরিণ কুকুরের কামড়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে জেলা সামাজিক বনবিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত ঐ ইকো পার্কটিতে রাখা তিনটি হরিণের মধ্যে ঐ হরিণটি কুকুরের কামড়ে মারা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ আহত হরিণটির চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছেন তারা। তবে বনবিভাগ বলছে কুকুরের কামড়ে নয় ইকো পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়া একটি ভারতীয় কুকুরের তাড়া খেয়ে আহত হয়ে হরিণটির মৃত্যু হয়েছে। রোববার মৃত হরিণটির ময়নাতদন্ত করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলিয়া উপজেলার মহানন্দা নদীর ধারে ঐতিহাসিক ডাকবাংলো চত্বরের পাশে বনবিভাগের সাড়ে ১০ একর জমির উপর একটি আমবাগানের ভেতর গড়ে ওঠে তেঁতুলিয়া ইকোপার্ক। ২০২১ সালে এ ইকো পার্কে হরিণ, ঘোড়া, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণ ও প্রদর্শন শুরু করা হয় পার্কটিতে। নেটের বেড়ার ঘের দিয়ে ভেতর তিনটি হরিণ রাখা হয়েছিল। হরিণসহ বন্যপ্রাণীদের দেখতে টিকিট কেটে প্রতিদিন প্রবেশ করতো দর্শনার্থীরা। 

Advertisement

শনিবার সকালে হরিণের ঘেরার নিচ দিয়ে কয়েকটি কুকুর প্রবেশ করে তুলনামূলক দুর্বল ঐ হরিণটির উপর আক্রমণ করে বসে। এতে মারাত্মক আঘাত পায় হরিণটি। পরে বনবিভাগের লোকজন কুকুর তাড়ালেও আহত হরিণটি চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায় আহত চিত্রা হরিণটি। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় অপর দুই হরিণ। ঘটনার পরপরই বিষয়টি গোপন করার জন্য তৎপর হয়ে উঠে বন বিভাগের কর্মকর্তারা। সাজানো হয় গল্প।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ইকো পার্কের কাছের এক বাসিন্দা জানান, পাঁচটি কুকুর কামড়ে ধরেছিল হরিণটিকে। এতে আহত হলেও তারা চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এর আগেও তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে হরিণ মারা গেছে।

বন বিভাগ পঞ্চগড়ের রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জল হোসাইন বলেন, কুকুরের কামড়ে নয় ইকো পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়া একটি ভারতীয় কুকুরের তাড়া খেয়ে আহত হয়ে হরিণটির মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ। হরিণটির বয়স দেড় বছরের মতো। এ ঘটনায় আমি নিজেই তদন্ত করব। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!