ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ৮ জনকে কুপিয়ে জখম, একজনের মৃত্যু

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ২১:১৯, ১৩ নভেম্বর ২০২২
জমি সংক্রান্ত বিরোধে ৮ জনকে কুপিয়ে জখম, একজনের মৃত্যু
নালিতাবাড়ী থানা। ফাইল ছবি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াগাঁও ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের আটজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জালাল উদ্দীন নামে একজন দশ দিন পর মারা গেছেন। 

রোববার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সমশ্চুড়া জোড়ার পাড় গ্রামে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন জালাল উদ্দিন, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, তাদের মেয়ে জামেনা খাতুন, ছেলে আব্দুর রশিদ, মনির হোসেন, এরশাদ আলী, ছেলে আব্দুর রশিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও মনিরের পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মর্জিনা বেগম।  

Advertisement

এলাকাবাসী জানায়, অর্পিত ছয় শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল ভূমিহীন জালাল উদ্দিন ও প্রতিবেশী নই মিয়ার মধ্যে। নই মিয়া দাবি করে আসছিলেন ছয় শতাংশ অর্পিত জমি জালাল উদ্দিন জোড় করে ভোগদখল করছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় কয়েক দফা সালিস হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। 

গত বৃহস্পতিবার নই মিয়ার ছেলে শফিকুলের দেয়া একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য জালাল উদ্দিনসহ তার পরিবারের আটজন শেরপুর আদালতে যান। এ সুযোগে নই মিয়া তার ছেলে শফিকুল ও সোহান ৩০-৪০ জন লোককে নিয়ে জালাল উদ্দিনের দখলে থাকা জমিতে ঘর তুলতে শুরু করেন। জালাল উদ্দিনরা বাড়ি ফিরে এ অবস্থা দেখে প্রতিবাদ করলে পূর্ব  থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা নই মিয়া তার ছেলে শফিকুল ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে জালাল উদ্দিন ও তার পরিবারের আট জনকে কুপিয়ে আহত করেন।  

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জালাল উদ্দিনের জামাতা আন্তাজ আলী আহতদের প্রথমে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। আহতদের মধ্যে জালাল উদ্দীন, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মেয়ে জামেনা খাতুন ও ছেলের বউ শাহনাজ এ চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের মধ্যে দু’জনকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। আহত জালাল উদ্দীনের অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে শনিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

জালাল উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ভূমিহীন আমাদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। স্থানীয় সমশ্চুড়া মৌজার ২১৪ দাগের ছয় শতাংশ জমিসহ সমশ্চুড়া ঝোড়ার কিছু সরকারি জমিতে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়িঘর করে বসবাস করে আসছি। নই মিয়া গং আমাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমি এর বিচার চাই। 

নালিতাবাড়ী সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শিগগিরই পরবতী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: শেরপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!