ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলেন পাষণ্ড পিতা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২১, ২৫ নভেম্বর ২০২২
দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলেন পাষণ্ড পিতা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুরের বিরলের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত রুম থেকে আপন সহোদরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিরলের বিজোড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো, সহোদর বড় ভাই ইমন হাসান (৭) ও ছোট ভাই ইমরান হাসান (৩)। তারা দিনাজপুর জেলার বিরল পৌরসভা এলাকার শংকরপুর ঘোড়া পীর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে।

Advertisement

ওই শিশুদের দাদা রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে আমার ছেলে শরিফুল ইসলাম আমার দুই নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বিরলের বাজারে শীতের কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। গভীর রাত পর্যন্ত তারা বাড়িতে না আসা পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন ও নিকটস্থ জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করি কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান পাইনি। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিরলের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পাশ থেকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাই, দুটি শিশুর লাশ পড়ে আছে।

পরে ঘটনাস্থলে এসে শনাক্ত করি। আগে থেকেই আমার ছেলে দুই শিশুকে মেরে ফেলে নিজেও বিষ খাবে এমন হুমকি দিয়ে আসছিল। অনেক দিন ধরেই সে পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিল। 

দিনাজপুর পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগর বলেন, গত এক মাস আগেই শরিফুল ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুমের মধ্যে তালাক হয়। এই তালাকের জের ধরেই শিশু দুটির বাবা শরিফুল ইসলাম নিজ হাতে তুই শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন। ঘাতক পিতা পলাতক রয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলামউদ্দিন জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে শিশু দুটির বাবা শরিফুল ইসলাম নিজেই তার বাড়ি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে খাবারের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে। পুলিশ ঘাতক পিতাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!