ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দেহহীন আয়াতের মাথায় আটকানো ছিল রঙিন ক্লিপ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪১, ১ ডিসেম্বর ২০২২
দেহহীন আয়াতের মাথায় আটকানো ছিল রঙিন ক্লিপ
ইনসেটে আয়াত

ছোট্ট আয়াতের হাসিতে আনন্দ খুঁজে পেতেন সোহেল-তামান্না দম্পতি। বিকেল হলেই খেলায় মেতে উঠতো মেয়েটি। কিন্তু গেল ১৭ দিনে এ দম্পতির ঘরে নেই কোনো আনন্দ। হাসি-খুশিতে মাতিয়ে রাখা সেই মেয়েটির লাশের টুকরোর সন্ধানেই পার করেছেন দিন। সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া আয়াতের দুই পায়ের পর এবার খোঁজ মিলেছে বিচ্ছিন্ন মাথাটির। তবে চুলে আটকানো ছিল রঙিন ক্লিপ।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী ঘাটের স্লুইসগেট এলাকা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে খণ্ডিত অংশের ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বাকি চার অংশের খোঁজেও চলছে অভিযান।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন, আবিরের দেওয়া তথ্যমতে আকমল আলী ঘাটের স্লুইসগেট এলাকায় অভিযান চালাতে থাকে পিবিআই। একপর্যায়ে স্লুইসগেট থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সাগরের কাছাকাছি একটি পলিথিন ব্যাগে কিছু আছে বলে পিবিআইকে জানান এক জেলে। এরপর সেখানে গিয়ে আয়াতের দেহাংশটি উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিন হওয়ায় অনেকটা বিকৃত হয়ে গেছে আয়াতের চেহারা। তবে মাথার চুল ও ক্লিপ দেখে সেটি তারই দেহাংশ শনাক্ত করেন স্বজনরা। উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশগুলোর ডিএনএ টেস্ট করা হবে।

এর আগে, বুধবার বিকেলে স্লুইসগেটের খাল থেকে পলিথিনে মোড়ানো আয়াতের দুই পা উদ্ধার করা হয়। আয়াত ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সি বাড়ির সোহেল রানার মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়িতে ভাড়ায় থাকে আবিরের পরিবার।

আয়াত নিখোঁজের ৯ দিনের মাথায় ২৪ নভেম্বর রাতে আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকা থেকে আবিরকে আটক করে পিবিআই। আটকের পর তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে খুলে ঘটনার জট। পিবিআই’র কাছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিতে থাকেন আবির। এরপরই তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি ও অ্যান্টি কাটার উদ্ধার করে পিবিআই। উদ্ধার করা হয় আয়াতের জুতাও।

১৫ নভেম্বর বিকেলে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত। ওই ঘটনায় একই দিন রাতে ইপিজেড থানায় জিডি করেন তার বাবা। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা সোহেল রানা ও মা তামান্না খাতুন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল ঘুরেও পাননি আদরের সন্তানকে। পরে সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল পরিবার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!