ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আয়াতকে ৬ টুকরো করা সেই আবির রিমান্ডে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৩, ২৬ নভেম্বর ২০২২
আয়াতকে ৬ টুকরো করা সেই আবির রিমান্ডে
আবির

চট্টগ্রামে শিশু আয়াতকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আবির আলীকে দুদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাদ্দাম হোসেন এ রিমান্ড দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তিনি বলেন, আবির আলীকে দুদিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। এখন তাকে হেফাজতে এনে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা হবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকা থেকে আবিরকে আটকের পর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে খুলে ঘটনার জট। ঘটনার দিন বিকেলে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় আয়াত। ওই সময় তাকে কোলে নেন আবির। যেটি ওই এলাকায় খেলাধুলা করা অন্য শিশুরাও দেখতে পায়। পাশাপাশি সিসিটিভির ফুটেজেও দেখা মেলে একই চিত্র। কোলে নেয়ার পর আয়াতকে তাদের নিচতলায় বাবার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান আবির। সেখানেই শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আবির জানান, বেশ কিছুদিন ধরে আয়াতকে অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। এজন্য রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিমও সংগ্রহে রেখেছিলেন। যাতে নম্বরটি থেকে ফোন করে টাকা দাবি করতে পারেন। কিন্তু সিমটি সচল না থাকায় আর ফোন করতে পারেননি।

আবির আরো জানান, মা-বোনকে বাবার বাসায় পাঠিয়ে রাতেই একটি অ্যান্টি কাটার ও কিছু পলিথিন কেনেন তিনি। কিন্তু অ্যান্টি কাটার দিয়ে টুকরো করতে না পেরে বাসায় থাকা বটি দিয়েই আয়াতের শরীর থেকে হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর পলিথিন ও স্কচ টেপ দিয়ে মুড়িয়ে পুনরায় মালামাল রাখার শেডে রেখে দেন। পরদিন সকালে ও রাতে সাগর সংলগ্ন একটি নালায় তিনটি করে ছয়টি প্যাকেট ফেলে দেন।

শুক্রবার আবিরকে নিয়ে আকমল আলী সড়কের স্লুইস গেট সংলগ্ন নালা ও আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকার সমুদ্র পাড়ে যায় পিবিআই। কিন্তু সাগরের পানিতে ভেসে যাওয়ায় লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আবিরের দেওয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও অ্যান্টি কাটার। উদ্ধার করা হয়েছে আয়াতের জামা-জুতাও।

১৫ নভেম্বর বিকেলে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত। ওই ঘটনায় একই দিন রাতে ইপিজেড থানায় জিডি করেন তার বাবা। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা সোহেল রানা ও মা তামান্না খাতুন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল ঘুরেও পাননি আদরের সন্তানকে। পরে সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল পরিবার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!