ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বটি দিয়ে আলাদা করেন হাত-পা-মাথা, দিলেন আয়াত হত্যার রোমহর্ষক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:০৭, ২৬ নভেম্বর ২০২২
বটি দিয়ে আলাদা করেন হাত-পা-মাথা, দিলেন আয়াত হত্যার রোমহর্ষক
আবির (মাঝখানে)

ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রোল’ পছন্দ করতেন আবির। ক্রাইম পেট্রোল দেখেই মুক্তিপণ আদায়, লাশ গুম, আলামত নষ্টসহ সবকিছু রপ্ত করেন। নিজের কেনা অ্যান্টি কাটার দিয়ে কাটতে না পারায় কাজে লাগান ঘরের বটি। আর বটি দিয়েই আলাদা করেন আয়াতের হাত-পা ও মাথা। এরপর ফেলে দেন সাগরে।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এমনই তথ্য দিয়েছেন আবির। সাগরে ভেসে যাওয়ায় লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও আবিরের দেওয়া তথ্যে হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও অ্যান্টি কাটার উদ্ধার করেছে পিবিআই। উদ্ধার করা হয়েছে আয়াতের জামা-জুতাও।

পিবিআই জানায়, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ায় সম্প্রতি আকমল আলী সড়কের পকেট বাজার এলাকায় আলাদা একটি বাসা ভাড়া নেন আবিরের মা। তবে আবিরের বাবা এখনো আয়াতের দাদার বাসায় ভাড়ায় থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই বাসায় ভাড়ায় থাকায় আয়াতের পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল আবিরের। সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে আয়াতকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।

Advertisement

ঘটনার দিন বিকেলে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় আয়াত। ওই সময় তাকে কোলে নেন আবির। যেটি ওই এলাকায় খেলাধুলা করা অন্য শিশুরাও দেখতে পায়। পাশাপাশি সিসিটিভির ফুটেজেও দেখা মেলে একই চিত্র। কোলে নেয়ার পর আয়াতকে তাদের নিচতলায় বাবার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান আবির। সেখানেই শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার রাতে আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকা থেকে আবিরকে আটকের পর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে খুলে ঘটনার জট।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আয়াতকে অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করছিলেন আবির। এজন্য রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিমও সংগ্রহে রেখেছিলেন। যেন নম্বরটি থেকে ফোন করে টাকা দাবি করতে পারেন। কিন্তু সিমটি সচল না থাকায় আর ফোন করতে পারেননি।

পরিদর্শক মর্জিনা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করলেও পুলিশকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করেছিলেন আবির। বৃহস্পতিবার রাতে হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত ও আলামত কোথায় আছে তা জানান তিনি।

আবির জানান, মা-বোনকে বাবার বাসায় পাঠিয়ে রাতেই একটি অ্যান্টি কাটার ও কিছু পলিথিন কেনেন তিনি। কিন্তু অ্যান্টি কাটার দিয়ে টুকরো করতে না পেরে বাসায় থাকা বটি দিয়েই আয়াতের শরীর থেকে হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে পুনরায় মালামাল রাখার শেডে রেখে দেন। পরদিন সকালে ও রাতে সাগর সংলগ্ন একটি নালায় তিনটি করে ছয়টি প্যাকেট ফেলে দেন।

শুক্রবার আবিরকে নিয়ে আকমল আলী সড়কের স্লুইসগেট সংলগ্ন নালা ও আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকার সমুদ্র পাড়ে যায় পিবিআই। কিন্তু সাগরের পানিতে ভেসে যাওয়ায় লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

১৫ নভেম্বর বিকেলে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত। ওই ঘটনায় একই দিন রাতে ইপিজেড থানায় জিডি করেন তার বাবা। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা সোহেল রানা ও মা তামান্না খাতুন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল ঘুরেও পাননি আদরের সন্তানকে। পরে সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল পরিবার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!