ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আয়াতের হাসি-দুষ্টুমি এখন শুধুই স্মৃতি

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ২৫ নভেম্বর ২০২২
আয়াতের হাসি-দুষ্টুমি এখন শুধুই স্মৃতি
ইনসেটে আয়াত

ছোট্ট আয়াত। হাসি-খুশি আর দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখতো পুরো বাড়ি। ৯ দিন হলো বাড়িটিজুড়ে শুধুই নিস্তব্ধতা। মাঝে মাঝে শুধু ভেসে আসে মায়ের কান্নার আওয়াজ। এর মধ্যেই সন্ধান মেলে আয়াতের। তবে জীবিত নয়, কোমল দেহের ছোট্ট আয়াতকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করেছেন এক পাষণ্ড। এরপর থেকে ফের ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। মেয়ের শোকে অনবরত চিৎকার ও বিলাপ করছেন মা তামান্না খাতুন।

শুক্রবার বিকেলে এমনই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের দেখা মেলে আয়াতের বাড়িতে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকা থেকে আয়াতদের সাবেক ভাড়াটিয়া আবির আলীকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপরই খুলে ঘটনার জট। আবির ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবির আলী জানান, হত্যার পর আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে ছয় টুকরো করা হয় আয়াতের লাশ। এরপর ফেলে দেওয়া হয় সাগরে। লাশ টুকরো করার কাজে ব্যবহার করা হয় বটি ও অ্যান্টি কাটার।

Advertisement

শুক্রবার সকালে আয়াতের বাসায় যায় পিবিআই ও সিআইডির পৃথক দল। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন তারা।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেন আবির। পরে আয়াত চিৎকার করলে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার কাজে ব্যবহৃত বটি ও অ্যান্টি কাটারের পাশাপাশি আয়াতের জামা-জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের টুকরো উদ্ধারে অভিযান চলছে।

১৫ নভেম্বর বিকেলে ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত। ওই ঘটনায় একই দিন রাতে ইপিজেড থানায় জিডি করেন তার বাবা।

সন্তানের সন্ধান না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা সোহেল রানা ও মা তামান্না খাতুন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল ঘুরেও পাননি আদরের সন্তানকে। পরে সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল পরিবার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!