এ ঘটনায় রোববার দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক। এর আগে, এদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার পারতেখুর পূর্বপাড়া গ্রামে মারধরের শিকার হন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম মো. সজিবুল আলম সজিব। তিনি পারতেখুর সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. শাহ আলম। তিনি বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরকোণ পত্রিকার শাজাহানপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
.png)
সম্প্রতি শাজাহানপুর উপজেলায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা শুরু হয়। ওই উপজেলার একাধিক স্থান থেকে কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন ‘মাটিদস্যুরা’। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন সজিব। সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তরা হলেন- ওয়ারেছুল মোস্তফা (২৮), সাইফুল ইসলাম (৩৬) ও মোকাব্বর হোসেন (৩২)। তারা সবাই পারতেখুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেছুল মোস্তফা একজন মাটি ব্যবসায়ী। তিনি শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর পদ্মপুকুর থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছিলেন। তার অবৈধ মাটি ব্যবসা নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন সজিব। এতে ক্ষিপ্ত হন ওয়ারেছুল। রোববার সজিবকে মারধর করে সজিবের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন মাটি ব্যবসায়ীরা। এদিন পারতেখুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন সজিব। পথে পারতেখুর পূর্বপাড়া গ্রামে তার পথরোধ করেন অভিযুক্তরা। সেখানে তাকে মারধর (কিল-ঘুষি ও লাথি) করার পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন ওয়ারেছুল। পরে সাইফুল সাংবাদিক সজিবের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন। একইসঙ্গে সজিবের পকেটে থাকা ১২ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেন অভিযুক্ত মোকাব্বর।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সজিব নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্তরা তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যান। তবে এ সময় সজিবকে একা পেলে মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা।
সজিব বলেন, সাজাপুরের পদ্মপুকুরে মাটি উত্তোলনকারীরা আমার ওপর হামলা চালান। মাটিদস্যুরা আমাকে গলাকেটে হত্যার হুমকি দেন। বর্তমানে ওই পয়েন্টে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধ আছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি শাজাহানপুর উপজেলার কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন শুরু করেন ‘মাটিদস্যুরা’। তবে বর্তমানে অনেক পয়েন্ট বন্ধ থাকলেও উপজেলার খলিসাকান্দি, জালশুকা ও আমরুলের বড়নগর গ্রামে মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। গ্রাম তিনটিতে রাতে মাটি কাটা শুরু হয়ে চলে ভোর পর্যন্ত। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারীদের ‘মাটিদস্যু’ নাম দিয়েছেন স্থানীয়রা।
শাজাহানপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রউফ বলেন, সাংবাদিক সজিবকে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শাজাহানপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানম বলেন, সাংবাদিক সজিবকে মারধর করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা আমি শুনেছি। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধ করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এরপরেও অনেকে চুরি করে মাটি কাটছে। শিগগিরই সেগুলোও বন্ধ করা হবে। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।