উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে পৌর শহরসহ এ উপজেলায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে শীতের নানা প্রজাতির সবজির চাষ করা হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার টন উৎপাদন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ১৭ কোটি টাকা।

.png)
একাধিক কৃষক বলেন, ধান ও পাট চাষে ফলন ভালো না হওয়ায় বর্তমানে তারা বছরজুড়ে নানা প্রজাতির সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছি। শীতকালে ঝড়-বৃষ্টি কম থাকায় সবজি ফলন ভালো হয়।
সরেজমিনে উপজেলার আজমপুর, আনোয়ারপুর, রাজাপুর, রামধননগর, চানপুর, হিরাপুর, আদমপুর, তুলাবাড়ি, ধাতুরপহেলা, তারাগন, কৃষ্ণনগর, বনগজ খারকোট, মিনারকোট, নিলাখাত, গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু শীতকালিন সবজি আর সবজি নজরে পড়ছে। কৃষকরা সবজি পরিচর্যাসহ বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সবজি ক্রয় করতে ছুটছেন পাইকাররা। তাই তারা বিক্রির জন্য সবজি তুলে প্রস্তুত করে রাখছেন কৃষকরা।
সবজি চাষি মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, এ মৌসুমে ৫০ শতক জায়গায় দেশীয় পদ্ধতিতে ফুলকপি, মুলা, লালশাক পুঁইশাকসহ নানা জাতের সবজির আবাদ করেছি। এরমধ্যে ফুলকপির চারা লাগানো হয়েছে প্রায় ৬ হাজার। এ পযর্ন্ত ফুলকপি, মুলা, লালশাক ও পুঁইশাক ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদে দেড় লাখ টাকার ওপর আয় হবে বলে আশা করছি।
সবজি চাষি মান্নান মিয়া বলেন, সারা বছর সবজি চাষ করলেও শীতকালিন সবজিতে ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় ফলন ভালো হয়। তাই প্রকার রাসায়নিক সার ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে এবার ৬০ শতক জমিতে শীতকালিন ফুলকপি, মুলা, লালশাক, পুঁইশাক ও বেগুনসহ নানা জাতের সবজির আবাদ করেছি। এরমধ্যে সবজি বিক্রি শুরু করেছি।

কৃষক মো. মোবারক মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন ৬০ শতক জমিতে টমেটো, মোলা, লালশাক, ডাটাশাক, পুঁইশাক, শসা ও বেগুন চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার সবজির ফলন ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বেশীভাগ গ্রাম সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এসব এলাকার কৃষকরা নিজ উদ্যোগে দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি আবাদে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। ফলন ভালো করতে সব সময় তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কৃষি অধিদফতরের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল এবং বাজার দর ভালো থাকলে সবজি আবাদে লাভবান হবেন কৃষকরা।