মঙ্গলবার বিকেলে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে মেলা শেষ হয়। প্রথম পুরস্কার জয়ী গাছি কিসমত আলী বলেন, এ আনন্দ বলে প্রকাশ করার মতো নয়। আমি দীর্ঘদিন ধরে খেজুর গাছ কেটে আসছি। দুইদিনে আমি ১২ ভাঁড় (গুড় রাখার মাটির পাত্র) গুড় বিক্রি করেছি। গুড়ও বিক্রি করেছি আবার দশ হাজার টাকার পুরস্কারও জিতেছি। সবচে বড় কথা, আমাদের মতো গাছিদের সম্মানিত করা হয়েছে। আমি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
উপজেলা পরিষদ বৈশাখী মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। মেলায় অংশ নেয়া গাছিদের মধ্য থেকে ‘মানসম্পন্ন গুড় উৎপাদন প্রতিযোগিতা’য় বিজয়ী তিন গাছিকে যথাক্রমে দশ হাজার, সাত হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার, একটি করে ক্রেস্ট এবং সনদ প্রদান করা হয়।
.png)
প্রতিযোগিতায় ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কিসমত আলী প্রথম, পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামের আব্দুল গাজী দ্বিতীয় এবং স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের হাসান আলী তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া আগের ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলার ১১ ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় সর্বোচ্চ খেজুর গাছ কাটা গাছিদের মধ্য থেকে তিনজন করে ৩৬ জনকে পুরস্কৃত করা ছাড়াও প্রায় সাড়ে ৬০০ গাছিকে একটি করে কম্বল প্রদান করা হয়।
এছাড়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস ও গুড় নিয়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা এবং দুই গ্রুপে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যশোরের জেলা প্রশাসককে একটি রৌপ্যের তৈরি খেজুর গাছ এবং স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকতকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে এমন ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানাকে সম্মাননা প্রদান করেন চৌগাছার পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যশোরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) হুসাইন শওকত, চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোস্তানিছুর রহমান, চৌগাছার পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল প্রমুখ।
এর আগে, সোমবার সকাল পৌনে ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের মেলার উদ্বোধন করা হয়।