ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আলোচিত হালিম হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহাগ গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ২১ জানুয়ারি ২০২৩
আলোচিত হালিম হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহাগ গ্রেফতার
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহাগ গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় আলোচিত আব্দুল হালিমকে (৩০) গলা কেটে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহাগকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার খিলগাঁও থানার তিলাপড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সোহাগ ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ পানির ট্যাংকি সাউপাড়া এলাকার শাহজাহানের পুত্র। 

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, কয়লা ব্যবসার জন্য চুক্তি ভিত্তিতে ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হালিমের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন বন্ধু ইকবাল। দীর্ঘদিন ওই ব্যবসার লাভ কিংবা মূল টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো টালবাহনা করছিলেন। এসব কারণেই তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। সেই বিরোধের জের ধরে ২০১৪ সালের ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় টাকা দেওয়ার কথা বলে আব্দুল হালিমকে ফতুল্লার শাসনগাওস্থ বাড়িতে ডেকে নেন ইকবাল। সেখানে ইকবালের ছাদে হালিমকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে অচেতন করেন ইকবাল। এরপর ইকবালের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে হালিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে পাঁচ টুকরো করে লাশ গুম করে ফেলেন।

Advertisement

ঘটনার পরদিন হালিমের ছোট ভাই শামীম উদ্দিন বাদী হয়ে ইকবালের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের নামে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রথমে সাদেকুর রহমান গ্রেফতার হলে তার দেওয়া তথ্যে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় আবদুল হালিমের বস্তাবন্দি অবস্থায় হাত-পাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রিজাউল হক দিপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং আদালতের তথ্য সূত্র দিয়ে তিনি জানান, ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার ওয়ার্কশপ মালিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আদালত। রায়ের পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহাগকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিছুর রহমান এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে একইসঙ্গে আরো সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরো ছয় মাস করে কারাভোগ করতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকার মৃত ফুলচানের পুত্র ইকবাল হোসেন (৩৫), পশ্চিম দেওভোগ সাউপাড়া এলাকার শাহজাহানের পুত্র সোহাগ (৪০), সুনামগঞ্জের মৃত ইছাক মোল্লার পুত্র সাদেকুর রহমান (৩৮) ও শরীয়তপুরের মৃত হারুন কাজীর ছেলে বাবু কাজী (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায়। হত্যার অভিযোগে চারজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে রায়ের আদেশে বলা হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক ছিলেন। এ মামলায় তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন, আবুল হোসেন, মেহেদী ও মোক্তার হোসেন। রায় ঘোষণার সময় খালাসপ্রাপ্ত তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!