জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, কুমিল্লায় সূর্যমুখী চাষাবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় এটা খুব লাভজনক। এ বছর কুমিল্লার দেবিদ্বার, বরুড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, হোমনা, লাকসাম, মুরাদনগর, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা আদর্শ সদর, মেঘনা, মনোহরগঞ্জ, সদর দক্ষিণ, তিতাস, বুড়িচং ও লালমাই উপজেলার ৩১০ জন কৃষক ১১৮ হেক্টর জমিতে প্রণোদনা প্রকল্পের আওতায় হাইসান (হাইব্রিড আরডিএস-২৭৫) জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে ছয় মণ ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা বাজার সংলগ্ন ডুমুরিয়া এলাকার কৃষক আবদুল জলিল তার ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তার জমিতে পাকা ও আধাপাকা সূর্যমুখী ফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। জমির পাশেই তরুণ-তরুণীসহ নানান বয়সের মানুষ ছবি তুলছেন সূর্যমুখী ফুলের সঙ্গে।
.png)
কৃষক আবদুল জলিল জানান, গত দুই মাসে বিভিন্ন প্রকার সার ও সেচ দিয়ে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এখনো ফুল পাকা শুরু করেনি। কিছুদিনের মধ্যে পেকে গেলে সূর্যমুখী ফুলগুলো সংরক্ষণ করে তেল উৎপাদন করে বাজারজাত করবেন তিনি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সদর দক্ষিণ বিজয়পুরের চৌধুরীখোলা এলাকার কৃষক মো. ইয়াছিন বলেন, লাভের আশায় সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছি। কিছুদিন আগে সদর দক্ষিণ কৃষি অফিসের হাবিবুল বাশার স্যার পরিদর্শন করে গেছেন। কৃষি অফিস থেকে আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এই সহযোগিতা পেলে লাভের মুখ দেখতে পারব। শুনেছি সূর্যমুখী তেলের অনেক দাম। তাই এই ফসল নষ্ট হতে দিতে চাই না। কষ্ট হলেও ফসলের যত্ন করছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের হাতে-কলমে বীজ বপন ও আহরণ কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও পরিদর্শন অব্যাহত রয়েছে। সূর্যমুখী চাষে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা প্রতি বিঘায় খরচ হয়। আর এখান থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বেড়েছে।