সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর (জেলা ও দায়রা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত খোকনের বাড়িঘর, স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এ অর্থদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দেন বিচারক। খোকন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মুকুল হোসেনের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
.png)
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর এলাকায় বাক প্রতিবন্ধী এক শিশু তার নানাবাড়িতে বেড়াতে যান। ঐদিন সন্ধ্যায় ঐ এলাকার খোকন তাকে ধরে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগী রক্তাক্ত অবস্থায় তার নানাবাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা জানান। বাক প্রতিবন্ধী শিশু আসামির বাড়ি দেখিয়ে দেয় এবং আসামি খোকনকে শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি মুজিবনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খোকন এবং মমিনুল শেখ ওরফে কালুকে আসামি করা হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুব্রতকুমার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এতে আসামি খোকন দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খোকনের প্রতি আরোপিত অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মামলার অপর আসামি মমিনুল ওরফে কালুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।