নিহত রঞ্জু বেড়া উপেজলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের নতুন ভারাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
অভিযুক্ত ভায়রা আমিন (৩২) নতুন ভারেঙ্গ গ্রামের জেছের আলীর ছেলে এবং তার খালাতো ভাই সুজন (২০) আলী একই গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে।
.png)
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, রঞ্জুর খালাতো ভাই সুজন কয়েক মাস আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর বনিবনা না হয় তাদের উভয় পক্ষের সম্মতিতে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে সুজন অন্যত্র বিয়েও করেছেন। কিন্তু এরপরও সুজন তার আগের স্ত্রীর বাড়ির লোকজনকে নিয়ে কটুক্তি ও হুমকি প্রদান করতে থাকেন। এ ব্যাপারে তার আগের পক্ষের শ্বশুরবাড়ির লোকজন রঞ্জুর কাছে নালিশ দেন। গত সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রঞ্জু তার খালাতো ভাই সুজনকে সতর্ক করেন।
এ বিষয়টি সুজন তার মাকে জানান। পরে এ নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রঞ্জু ও সুজনের মা অর্থাৎ দুই বোন ঝগড়া করেন। এতে অপমানিত বোধ করেন সুজন। তিনি তার আপন ভগ্নিপতি আমিনকে সঙ্গে নিয়ে খালাতো ভাই রঞ্জুকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
সে মোতাবেক মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আমিন ও সুজন মিলে রঞ্জুর বাড়ির কাছে রাস্তায় তার গতিরোধ করেন। এরপর আমিন তার খালাতো ভায়রা রঞ্জুকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে একটি আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারান রঞ্জু। এ সময় তার স্বজনরা এগিয়ে এসে প্রথমে তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পড়ে তাকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কিন্তু গভীর রাতে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখান থেকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
বেড়া মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। রাতে খবর পাওয়ার পরই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান ওসি।