আধা কিলোমিটার দূরে ছিলেন সালাউদ্দিন, সেখানেই উড়ে গেল লোহার পাত
সীতাকুণ্ডের সীমা রি-রোলিং মিলের অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সালেহ কার্পেট নামে একটি কারাখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. সালাউদ্দিন। এ সময় শুনতে পান বিস্ফোরণের শব্দ। এরপরই একটি লোহার পাত উড়ে এসে আঘাত করে তার শরীরে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সালেহ কার্পেট কারখানায় পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালক নূর মোহাম্মদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানাটি ভাড়া নিয়ে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিলেন স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী। তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন সালাউদ্দিন। তিনি মালামাল গ্রহণ করে তা যথাস্থানে রাখতেন ও চালানে সই করতেন।
.png)
বিস্ফোরণস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে লোহার টুকরার আঘাতে নিহত হন আরেকজন, তার নাম মো. শামসুল আলম। সে সময় জাহানাবাদ এলাকায় একটি দোকানে বসা ছিলেন তিনি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি ধাতব টুকরো উড়ে গিয়ে তার মাথায় পড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বারান্দায় আহাজারি করছিলেন শামসুল আলমের মেয়ে মরিয়ম আক্তার। তখন তিনি বলতে থাকেন, ‘ওবা (ও বাবা), কিল্লাই ফালাই গেলাগোই (কেন আমাদের ফেলে চলে গেলে), ক্যানে গেলা গই (কীভাবে চলে গেলে)? আঁরারে রাখি কিল্লাই গ্যালা (আমাদের রেখে কেন গেলে)? এহন আঁর বইনোরে কী হইয়ুম দে (এখন আমার বোনকে কী জবাব দেবো)? কী জবাব দিইয়ুম দে (কী জবাব দেবো)?’
শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধ হয়েছেন আরো অন্তত ৪৫ জন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন- সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল এলাকার শামসুল আলম, ফৌজদারহাট বাংলাবাজার এলাকার মো. ফরিদ, ফটিকছড়ি উপজেলার মো. সেলিম, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ছোট মনগড়া গ্রামের মিকি রেঙি লখরেটের ছেলে রতন লখরেট, নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার অলিপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আবদুল কাদের ও লক্ষ্মীপুরের মো. সালাউদ্দিন।
আহতদের মধ্যে ৯ জন হলেন- মো. নূর হোসেন, মো. আরাফাত, মোতালেব, ফেনসি, মো. জসিম উদ্দিন, নারায়ণ, মো. ফোরকান, শাহরিয়ার, মো. জাহিদ হাসান।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সহায়তার ঘোষণাও। আহতদের চিকিৎসার খবর নিতে সন্ধ্যায় চমেক হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. তৌহিদুল ইসলাম।
এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সব খরচ ও ওষুধ দেওয়া হবে।